প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইর (পিএসজি) দলে নেই বড় কোনো তারকা। নেই কিলিয়ান এমবাপ্পে। নেই কোনো গ্যালাক্টিকো ঝলক। তবুও থেমে নেই তাদের দাপট। লুইস এনরিকের দল দেখিয়ে দিল, তারা শুধু কাগজে-কলমে বড় নয়। মাঠেও তারা শক্তিশালী।
শনিবার অঁজেরের বিপক্ষে একমাত্র গোল করেন দেজিরে দোয়ে। তার গোলে জয় পায় পিএসজি। ম্যাচটি ছিল লিগ ওয়ানের নিয়মিত সূচির একটি। তবে এই জয়েই ছয় ম্যাচ হাতে রেখে শিরোপা নিশ্চিত করে ফেলল পিএসজি। এখনো তারা লিগে অপরাজিত।
এই জয়ের পর পিএসজির পয়েন্ট দাঁড়ায় ৭৪। দ্বিতীয়স্থানে থাকা মোনাকো সব ম্যাচ জিতলেও ৭১ পয়েন্টের বেশি পাবে না। তাই পয়েন্টের ব্যবধানে আগেভাগেই শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যায়। এটি পিএসজির ১৩তম লিগ ওয়ান শিরোপা। ফ্রান্সের লিগ ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ।
২০১৩ সালে ক্লাবে যোগ দিয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মার্কিনিয়োস। এবার তিনি নিজের ১০ম লিগ শিরোপা জিতলেন। একজন খেলোয়াড় হিসেবে এটি রেকর্ড। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “এটা সত্যিই পাগলামি। এত বছর ধরে একই ক্লাবে খেলা কঠিন। কিন্তু এই শিরোপাগুলো চিরকাল ইতিহাস হয়ে থাকবে।”
ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল পায়নি পিএসজি। তবে তারা পুরো আধিপত্য বজায় রাখে। ১১টি শট নেয় তারা। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি শট নেন গনসালো রামোস। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোল আসে দ্বিতীয়ার্ধে।
মাঠে তখন দশ মিনিট পার হয়েছে। জানুয়ারিতে দলে আসা খভিচা খভারাতস্কেলিয়া একটি দারুণ ক্রস বাড়ান। সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন দেজিরে দোয়ে। তিনি অসাধারণ এক ভলিতে বল জালে পাঠান। এই গোল তার এবারের লিগে পঞ্চম।
পরে মাঠে নামেন দলের সেরা গোলদাতা ওসমান দেম্বেলে। তিনি এখন পর্যন্ত ২১টি গোল করেছেন। তবে ম্যাচে আর গোল হয়নি। ১-০ ব্যবধানের জয়েই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল।
শেষ বাঁশি বাজতেই গ্যালারি আনন্দে ফেটে পড়ে। পুরো পার্ক দে প্রিন্স গর্জে ওঠে ‘উই আর দ্য চ্যাম্পিয়নস’ স্লোগানে।
কোচ লুইস এনরিক দায়িত্ব নেওয়ার পর দলটি মাত্র দুটি লিগ ম্যাচ হেরেছে। অনেকে ভেবেছিলেন এমবাপে চলে যাওয়ার পর পিএসজি দুর্বল হয়ে পড়বে। কিন্তু এনরিক তা হতে দেননি। তিনি দেখিয়েছেন, বড় তারকা ছাড়া শুধু দলগত চেষ্টাতেই গড়া যায় শক্তিশালী দল।
ম্যাচ শেষে আবেগঘন মুহূর্তে দেখা যায় এনরিক ও ক্লাবের ডিরেক্টর লুইস কাম্পোসকে। পরে পুরো দল কোচকে কাঁধে তুলে নেয়। সবাই মিলে উদযাপন করে শিরোপা জয়।
এই দল নতুন করে তৈরি হয়েছে। তবুও তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। দলে বড় কোনো নাম না থাকলেও পিএসজির হার না মানার মানসিকতা আছে। আছে কৌশলের দৃঢ়তা। এসব নিয়েই তারা হয়ে উঠেছে লিগ ওয়ানের শাসক।
এবার পিএসজির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। লক্ষ্য ইউরোপ সেরা হওয়া। সামনে রয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল। প্রতিপক্ষ ইংলিশ ক্লাব অ্যাস্টন ভিলা। এখন দেখার পালা, চ্যাম্পিয়নদের এই যাত্রা কতদূর যায়।

