দীর্ঘ প্রায় আড়াই মাসের অচলাবস্থার অবসান ঘটতে চলেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলে। ব্রিটিশ কোচ জেমস বাটলারের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন বিদ্রোহী ফুটবলাররা। কৃষ্ণা রানী সরকার, সানজিদা আক্তারসহ সিনিয়র ১৪ জন নারী ফুটবলার কোচের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সোমবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় নারী ফুটবল দলের এই সংকটের শুরু গত জানুয়ারিতে। তখন কোচ বাটলার এবং সিনিয়র ১৮ ফুটবলারের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চূড়ান্ত রূপ নেয়। কেউ কাউকে এড়িয়ে চলেছেন গত আড়াই মাস। কোচের অধীনে অনুশীলনে অনুপস্থিত থেকেছেন সিনিয়র ফুটবলাররা, আর কোচও তাদের নিয়ে কোনো কার্যক্রমে অংশ নেননি।
অবশেষে গতকাল (রোববার) সন্ধ্যায় গলল সেই বরফ। অনুষ্ঠিত হলো বহু প্রত্যাশিত বৈঠক। প্রায় আধঘণ্টার এই বৈঠকে কোচ বাটলার কিছু খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন এবং আন্দোলনের সমালোচনাও করেন। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন- পেছনের বিষয় ভুলে গিয়ে সামনে এগোতে চান তিনি। একই মনোভাব ফুটবলারদের মধ্যেও দেখা গেছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বৈঠকে বিদ্রোহী ১৪ ফুটবলার কোচকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তারা অতীত ভুলে একসঙ্গে অনুশীলনে ফিরতে প্রস্তুত। বাকি ৪ জন ফুটবলার বর্তমানে ভুটানে লিগ খেলায় ব্যস্ত। তারা হলেন- সাবিনা খাতুন, মাতসুশিমা সুমাইয়া, মনিকা চাকমা ও ঋতুপর্ণা চাকমা। মাসুরা পারভীনও ভুটানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে জাতীয় দলের ক্যাম্পে এখনো অনুপস্থিত রয়েছেন পাঁচজন ফুটবলার- কোহাতি কিসকু, স্বপ্না রানী, মুনকি আক্তার, জয়নব বিবি ও অর্পিতা বিশ্বাস। আরেক সিনিয়র ফুটবলার তহুরা খাতুন পারিবারিক কারণে দু-একদিন পর যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।
তবে সোমবার থেকে শুরু হওয়া জিম সেশনে বিদ্রোহী ফুটবলাররা অংশ না নিলেও আজ (মঙ্গলবার) থেকে কোচ বাটলারের অধীনেই মাঠে নামবেন বলে জানা গেছে।
আগামী জুনে এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব এবং জুলাইয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে আবারও পুরোদমে প্রস্তুতি নিতে চাচ্ছেন কোচ বাটলার। ২৬ মে থেকে ৩ জুনের মধ্যে একটি ফিফা উইন্ডোতে প্রীতি ম্যাচের সুযোগও রয়েছে বাংলাদেশের মেয়েদের সামনে।
সর্বশেষ এই বৈঠক ও অনুশীলনে ফেরার অঙ্গীকারে নারী ফুটবলে এক নতুন শুরু হতে পারে বলে আশাবাদী বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।

