পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) এর চলতি আসরে প্রথমবারের মতো মাঠে নেমে বাজিমাত করেছেন বাংলাদেশের তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। লাহোর কালান্দার্সের একাদশে সুযোগ পাওয়ার আগে, গত মৌসুমে তার বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অভিষেক হয়নি। কিন্তু এবার তিনি পিএসএলে তার প্রতিভা প্রদর্শন করেছেন এবং তার খেলা নজর কেড়েছে।
রোববার রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের বিরুদ্ধে লাহোর কালান্দার্স ৭৯ রানের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে লাহোর ৬ উইকেটে ২১৯ রান সংগ্রহ করে, এবং কোয়েটা মাত্র ১৪০ রানে গুটিয়ে যায় ১৬.২ ওভারে। এটি ছিল লাহোরের এবারের পিএসএল মৌসুমের প্রথম জয়।
রিশাদ হোসেনের বোলিং ছিল দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ৪ ওভারের স্পেলে ৩ উইকেট শিকার করেন এবং ৩১ রান দেন। তার বোলিংয়ের পাশাপাশি, লাহোরের স্পিন বিভাগের শক্তি বাড়ানোর জন্য ডেভিড ভিসার জায়গায় রিশাদকে একাদশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এবং সেই সিদ্ধান্তটি সঠিক প্রমাণিত হয়, কারণ লাহোরের তিন স্পিনার মিলে ৭ উইকেট তুলে নেন।
রিশাদ তার বোলিং শুরু করেন কোয়েটার ইনিংসের সপ্তম ওভারে। ওই ওভারে তিনি মাত্র ৭ রান দেন। এরপর তিনি রাইলি রুশোকে আর্ম ডেলিভারিতে বোল্ড করে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক থ্রু এনে দেন। রুশো ছিলেন কোয়েটার একমাত্র ব্যাটসম্যান যিনি লড়াই করার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু রিশাদের শিকার হওয়ার পর দলটি আর দাঁড়াতে পারেনি।
রিশাদ তার শেষ ওভারে ৬ রানের বিনিময়ে দুটি উইকেট শিকার করেন। প্রথমে মোহাম্মদ আমির স্টাম্প আউট হন এবং পরে আবরার আহমেদ ক্যাচ হয়ে ফিরেন। এই দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্সের পর রিশাদ তার প্রথম আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ম্যাচে নিজেদের প্রমাণ করেছেন।
পিএসএলের ড্রাফটে রিশাদ হোসেন ডায়মন্ড ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তার পারিশ্রমিক ছিল ৮৫ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে পুরো আসরে খেলার জন্য ছাড়পত্র দিয়েছে, এবং তিনি এখন শোচনীয় বোলিং পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের স্থান পাকা করেছেন।
রিশাদের জন্য এটি একটি নতুন শুরুর দিগন্ত এবং তার পরবর্তী প্রতিযোগিতাগুলির জন্য অনেক বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে।

