শনিবার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টায় কোপা দেল রে ফাইনালে এক উত্তেজনাপূর্ণ ‘এল ক্লাসিকো’ ম্যাচে মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা।
বার্সেলোনা সমর্থকরা গত মৌসুমে কিছু অতুলনীয় রাতের স্মৃতি নিয়ে এখনো উচ্ছ্বসিত। বিশেষ করে ১৩ জানুয়ারি এবং ২৭ অক্টোবরের ম্যাচ দুটি, যেখানে বার্সেলোনা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে ৪-০ এবং ৫-২ গোলে পরাজিত করেছিল। এই দুটি রাত বার্সেলোনার জন্য সারা মৌসুমের সেরা পারফরম্যান্সের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং সমর্থকদের মধ্যে এখনো গেঁথে রয়েছে। তবে, বার্সার সামনে আজকের ম্যাচ নতুন একটি চ্যালেঞ্জ।
ফুটবল এক অস্থির খেলা, যেখানে অতীতের সাফল্য ভবিষ্যতের সাফল্যের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। বিশেষ করে যখন প্রতিপক্ষ রিয়াল মাদ্রিদ থাকে, তখন কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়। বার্সেলোনা তার গত দুই ম্যাচে রিয়ালকে যে দাপট দেখিয়েছে, সেটি শুধু একটি অনুপ্রেরণা হতে পারে, কিন্তু সাফল্যের গ্যারান্টি নয়।
এই মৌসুমে বার্সেলোনা অসাধারণ ফুটবল খেলেছে এবং এখন ‘ট্রেবল’ জয় করার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে, তাদের পথে এখনও একটি বড় বাধা, আর তা হলো রিয়াল মাদ্রিদ। বার্সা গত জানুয়ারিতে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে রিয়ালকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল, কিন্তু আজকের ম্যাচেও তাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিপক্ষই রয়েছে।
বার্সার বর্তমান সাফল্যের পেছনে বড় অবদান রয়েছে কোচ হান্সি ফ্লিকের। তিনি গত মৌসুমে রিয়ালের বিপক্ষে ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাস দেখিয়েছিলেন, যেখানে তার হাইলাইন ডিফেন্স রিয়ালকে ১২ বার অফসাইড ফাঁদে ফেলেছিল। আজকের ম্যাচেও এই কৌশলটি কাজে লাগানো হতে পারে। ফ্লিকের ট্যাকটিক্যাল প্রজ্ঞা এবং ম্যাচের মেজাজ বুঝে দলকে পরিচালনা করার ক্ষমতা বার্সার সাফল্যের মূল কারণ।
আজকের ম্যাচে বার্সাকে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে রবার্ট লেভানডফস্কির অভাব। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে তিনি খেলতে পারবেন না, যা বার্সার আক্রমণে বড় ধাক্কা। গত ম্যাচে মায়োর্কার বিপক্ষে বার্সা ৪০টি শট নিয়েও মাত্র একটি গোল করতে পেরেছিল, যা প্রমাণ করে যে নাম্বার নাইনের অভাব বার্সার জন্য কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। এই অভাব পূরণের জন্য ইয়ামাল এবং রাফিনিয়াকে আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে।
আজকের ম্যাচে বার্সেলোনার প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো রিয়ালের ভয়ঙ্কর আক্রমণভাগকে থামানো এবং নিজেদের আক্রমণ শক্তিকে কাজে লাগানো। রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া, যিনি অসাধারণ ছন্দে রয়েছেন, তাকে প্রতিরোধ করা হবে আরও কঠিন। তবে ফ্লিকের ট্যাকটিক্স এবং ইয়ামাল ও রাফিনিয়ার মতো তরুণদের প্রতিভা বার্সাকে আবারও সাফল্য এনে দিতে পারে।
এল ক্লাসিকো সবসময় উত্তেজনা ও চ্যালেঞ্জে ভরা। আজকের ম্যাচটি যদি কোপা দেল রে ফাইনাল হয়, তবে বার্সেলোনা যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে তা নিঃসন্দেহে পাহাড়সম হবে। এখন দেখার বিষয় হলো, এই স্নায়ুচাপ সামলে বার্সা কীভাবে রিয়াল মাদ্রিদকে পরাজিত করতে সক্ষম হয় এবং তাদের ‘ট্রেবল’ জয় করার পথে প্রথম ধাপটি পার করতে পারে কিনা।

