ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ২০২৫ স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এসেছে ধরমশালায় পাঞ্জাব কিংস (পিবিকেএস) এবং দিল্লি ক্যাপিটালস (ডিসি) এর মধ্যে একটি ম্যাচ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর, যখন জম্মু ও পাঠানকোটের নিকটবর্তী এলাকায় বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়।
২০২৫ সালের ৮ মে, ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) সন্ত্রাসী ঘাঁটির বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে একটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানটি গত এপ্রিলে কাশ্মীরের পাহালগামে ২৬ জন বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানির জন্য দায়ী সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে চালানো হয়েছিল। এরপর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জম্মু, পাঞ্জাব এবং রাজস্থানের বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করা হয়, যা ভারতীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত করা হয়। এই ঘটনার জেরে ধরমশালার এইচপিসিএ স্টেডিয়ামে চলমান আইপিএল ম্যাচ বন্ধ করে দিয়ে খেলোয়াড় ও দর্শকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ধরমশালায় পাঞ্জাব কিংস বনাম দিল্লি ক্যাপিটালস ম্যাচটি ১০.১ ওভারে পাঞ্জাবের ১২২/১ স্কোরে থাকা অবস্থায় বন্ধ করা হয়। প্রথমে ফ্লাডলাইট ব্যর্থতার কারণে মনে করা হলেও- পরে জানা যায় যে এটি বিমান হামলার সতর্কতার কারণে ঘটেছে। এই ঘটনার পর ধরমশালা, কাংড়া এবং চণ্ডীগড়সহ উত্তরাঞ্চলের বিমানবন্দরগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে দলগুলোকে সড়কপথে পাঠানকোটে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখান থেকে তারা বিশেষ ট্রেনে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়। এছাড়া ১১ মে ধরমশালায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা পাঞ্জাব কিংস বনাম মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স (এমআই) ম্যাচটি আহমেদাবাদে স্থানান্তর করা হয়।
আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমল প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিলেন যে, সরকারের কোনো নির্দেশ না থাকায় টুর্নামেন্ট চলমান থাকবে। তিনি বলেন, “আমরা ভারত সরকারের পরামর্শ মেনে চলব। আমরা সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ধরমশালায় দলগুলোর যাতায়াতের বিষয়ে কাজ করছি।” তবে পরিস্থিতির অবনতি ও ধরমশালার ম্যাচ বাতিলের পর বিসিসিআই ৯ মে একটি জরুরি বৈঠকের পর টুর্নামেন্ট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। একজন বিসিসিআই কর্মকর্তা মাইখেলকে বলেন, “পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে পুরো লিগটি বাতিলের ঝুঁকিতে রয়েছে।”
উত্তেজনার মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশী খেলোয়াড় ভারত ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই পরিস্থিতি আইপিএলের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, কারণ অনেক খেলোয়াড় নিরাপত্তার কারণে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে অনিচ্ছুক।
এর আগেও আইপিএল বিভিন্ন কারণে ব্যাঘাতের সম্মুখীন হয়েছে। ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের কারণে টুর্নামেন্টের প্রথম অংশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হয়। ২০২০ ও ২০২১ সালে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে টুর্নামেন্ট স্থগিত হয়েছিল।

