বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচন ঘিরে সভাপতি পদে বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে জোর গুঞ্জন চলছে। বর্তমান সভাপতি ফারুক আহমেদের জায়গায় সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নাম ঘুরেফিরে শোনা যাচ্ছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) নাকি তাঁকে নির্বাচনকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে- এমন তথ্য ঘিরে আলোচনার ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্রীড়া অঙ্গনে।
এক বিসিবি পরিচালক জানিয়েছেন, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলে দায়িত্ব পালনরত বুলবুল ইতিমধ্যে প্রস্তাব পেয়েছেন এবং তিন মাসের নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে সম্মতিও দিয়েছেন। তাঁর দেশে ফিরে আসার খবরে গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে।
বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর। এরপর নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে অ্যাডহক কমিটি গঠন করতে চায় এনএসসি। তবে বর্তমান সভাপতি ফারুক আহমেদ নির্বাচনে ফের প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় বিকল্প ভাবনায় বুলবুলের নাম সামনে আনছে সরকারপক্ষ।
এ বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কিছু জানানো না হলেও উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীবের প্রেস সেক্রেটারি জানিয়েছেন, ক্রিকেট উন্নয়নে বুলবুলকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ থাকতে পারে। তবে পুরো প্রক্রিয়া এখনো অনিশ্চিত ও গোপনীয়।
এদিকে বিসিবির নির্বাচন ঘিরে কাউন্সিলরদের নিয়ে চলছে তীব্র প্রতিযোগিতা। ঢাকার ৭৬টি ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শুরু হয়েছে দখলদারি ও প্রভাব বিস্তারের লড়াই। দীর্ঘদিন বিসিবির সাবেক পরিচালক ইসমাইল হায়দার মল্লিকের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রায় ৫০টি ক্লাব এখন নিয়ন্ত্রণহীন। মল্লিক ৫ আগস্ট দেশ ছাড়ার পর এসব ক্লাব দখলে নিতে তৎপর হয়েছেন বিভিন্ন পক্ষ।
গুঞ্জন আছে, দেশের একটি প্রভাবশালী শিল্প গ্রুপ ১১টি ক্লাব কিনে ফেলেছে এবং তারা ফারুক আহমেদের প্রার্থীতা সমর্থন করছে। অন্যদিকে গাজী গ্রুপের ছয়টি এবং লুৎফর রহমান বাদলের তিনটি ক্লাবও বর্তমান সভাপতির পক্ষে ভোট দিতে পারে।
তবে ক্লাব মালিকানা নিয়ে বিসিবির তিন পরিচালক- ইফতেখার রহমান, মাহাবুবুল আনাম ও ফাহিম সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে, তারা তৃতীয় বিভাগে উন্নীত হওয়া ১৫টি ক্লাব মল্লিকের কাছ থেকে কিনেছেন। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) গড়িয়েছে। যদিও অভিযুক্ত কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন সামনে রেখে শুরু হওয়া এ কাদা ছোড়াছুড়ি মাঠের ক্রিকেটে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখন ছায়ার আড়ালে। নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে বিসিবির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা আরও গভীর হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

