৫ আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের পর বাংলাদেশে রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছিল। এর প্রভাব পড়েছে ক্রীড়াঙ্গনেও। সেই ধারায় এবার পরিবর্তনের মুখে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মাত্র নয় মাসের ব্যবধানে শেষ হতে চলেছে ফারুক আহমেদের অধ্যায়। তার সভাপতি থাকা এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতার বিষয়।
ফারুক আহমেদকে বিসিবির পরিচালক হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। বৃহস্পতিবার রাতে সেই মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বিসিবির নতুন কাউন্সিলর হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। যদিও বিসিবির গঠনতন্ত্রের ১২.৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে তখনই, যখন পরিচালনা পর্ষদ তা অনুমোদন করবে।
ধারণা করা হচ্ছে, অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় বিসিবির নির্বাচন পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন বুলবুল। এই প্রসঙ্গে তিনি কথা বলেছেন ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের সঙ্গে।
বুলবুল জানাচ্ছেন, তিনি দীর্ঘমেয়াদে বিসিবিতে থাকতে চান না। তার মূল লক্ষ্য হচ্ছে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন করা। যাতে গড়ে ওঠে একটি সেরা ক্রিকেট বোর্ড।
তিনি বলেন, “আমি নির্বাচনে অংশ নিতে চাই না। সরকার আমাকে এখানে চেয়েছে, আমি রাজি হয়েছি। এখন শুধু প্রক্রিয়া অনুসরণ করার বিষয়।”
বিসিবিতে কী ধরনের দায়িত্ব পালন করবেন তা নিয়েও তিনি এখনও নিশ্চিত নন।
বুলবুল বলেন, “আমি সবসময় ক্রিকেট উন্নয়নের সঙ্গে ছিলাম। তবে এরকম উচ্চ পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ আগে আসেনি। এবার প্রথমবার প্রস্তাব পেলাম, তাই না বলিনি। সুযোগ এসেছে বলেই কাজ করতে চাই। এখন আমার মনোযোগ শুধু নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করা। পরে কী হবে জানি না। আমি আইসিসিতে ফিরব কি না সেটাও ঠিক হয়নি। তবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। দীর্ঘমেয়াদে থাকারও পরিকল্পনা নেই।”
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বিসিবিতে পরিচালক মনোনয়ন দিতে এবং তা প্রত্যাহার করতে পারে। এ বিষয়ে বুলবুল বলেন, “আমি এখনও নিশ্চিত নই, বিসিবি আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দায়িত্ব দেবে কি না। গঠনতন্ত্র সম্পর্কেও পুরোপুরি জানি না। ক্রীড়া পরিষদ আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। এখন সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া না দেওয়া নির্ভর করছে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের ওপর।”
বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম বুলবুল বর্তমানে আইসিসির ডেভেলপমেন্ট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিসিবিতে কাজ করার বিষয়টি তিনি আইসিসিকে জানিয়েছেন। সে জন্য তিনি পেয়েছেন অনির্দিষ্টকালের ছুটি।
তিনি বলেন, “আইসিসি আমাকে বলেছে, আপনি বাংলাদেশে গিয়ে যতদিন প্রয়োজন কাজ করতে পারেন। আবার যেকোনো সময় ফিরে আসতে পারবেন। আপনার জন্য সবসময় দরজা খোলা থাকবে। আমি একমাত্র এশিয়ান সদস্য হয়েও আইসিসির কাছ থেকে এমন স্বাধীনতা পেয়ে কৃতজ্ঞ।”
বিসিবিতে এই হঠাৎ পরিবর্তন বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন পর্যন্ত কীভাবে এগোয় এই পরিবর্তনের ধারা।

