নেশন্স লিগের ফাইনালে ঠিক যেরকম নাটকীয়তা চায় ফুটবলপ্রেমীরা—তা-ই উপহার দিল পর্তুগাল-স্পেন ম্যাচ। রুদ্ধশ্বাস ৯০ মিনিট, অতিরিক্ত সময়, শেষে টাইব্রেকার—সব মিলিয়ে এক শ্বাসরুদ্ধকর রাত।
নিয়মিত সময়ের খেলা শেষ হয় ২-২ গোলে। অতিরিক্ত সময়েও গোল না আসায় শিরোপার ভাগ্য নির্ধারিত হয় টাইব্রেকারে। সেখানেই জ্বলে উঠলেন রোনালদোরা। স্পেনকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো উয়েফা নেশন্স লিগের চ্যাম্পিয়ন হলো পর্তুগাল। এই জয়ে তারা হয়ে গেল প্রথম দল, যারা দু’বার এই শিরোপা জিতল।
খেলার ২১ মিনিটেই এগিয়ে যায় স্পেন। মার্টন জুবিমেন্দির ডান পায়ের দুর্দান্ত শট পর্তুগালের জালে ঠাঁই নেয়। তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি রোনালদোদের। ২৬ মিনিটে নুনো মেন্ডেজের দুরন্ত গোলে ম্যাচে ফেরে পর্তুগাল। পেদ্রো নেতোর পাস ধরে বাঁ প্রান্ত থেকে দারুণ এক শটে গোলটি করেন মেন্ডেজ।
প্রথমার্ধের একেবারে শেষদিকে ফের এগিয়ে যায় স্পেন। তরুণ প্রতিভা লামিনে ইয়ামালের পাস থেকে পেদ্রি বলটি ঠেলে দেন মিকেল ওইয়ারজাবালের দিকে, যিনি সুযোগ হাতছাড়া না করে গোলটি করেন।
৬০ মিনিট পর্যন্ত ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল স্পেন। এর পরই নায়ক হয়ে উঠলেন রোনালদো। ৬১ মিনিটে মেন্ডেজের এক দিক পরিবর্তন করা ক্রস থেকে দুর্দান্ত ভলিতে বল জালে জড়ান তিনি। এটি ছিল তার ১৩৮তম আন্তর্জাতিক গোল। এই গোলেই সমতায় ফেরে পর্তুগাল এবং খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
টাইব্রেকারে শুরুতেই গোল পায় দুই দলই। এরপর একে একে গোল করে যান ভিতিনহা, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, নুনো মেন্ডেজ। স্পেনও গোল করেছিল—মেরিনো, বায়েনা, ইসকোর মাধ্যমে। কিন্তু চতুর্থ শটে স্পেনের অধিনায়ক আলভারো মোরাতার শট ঠেকিয়ে দেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তা। সেখানেই ভাগ্য নির্ধারণ। পঞ্চম শটে রুবেন নেভেস বল জালে জড়াতেই জয় নিশ্চিত হয় পর্তুগালের।
দারুণ এই জয়ে নতুন করে ইতিহাস গড়লো রোনালদোর দল। ম্যাচ শেষে উল্লাসে ভাসলেন রোনালদো, যার নেতৃত্বে এই শিরোপা জিতেছে পর্তুগাল। অনেকেই বলছেন, এটাই হতে পারে তার শেষ আন্তর্জাতিক ট্রফি—যদি না আরও চমক অপেক্ষা করে থাকে সামনে।

