নাজমুল হোসেন শান্ত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে হারের পর কলম্বো টেস্ট শেষে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি টেস্ট অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। প্রথম টেস্টের পর থেকেই এ নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল এবং শেষমেশ তা বাস্তবে রূপ নিল।
২০২৩ বিশ্বকাপের পর শান্তকে সব ফরম্যাটের অধিনায়ক করা হয়েছিল কিন্তু এক বছর না পেরোতেই গত বছর তিনি নেতৃত্ব ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতির অনুরোধে তিনি তখন টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়কত্ব ধরে রাখলেও টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন। চলমান শ্রীলঙ্কা সিরিজ শুরুর আগে তাকে জানানো হয় যে, ওয়ানডে অধিনায়কত্ব থেকে তাকে সরিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই গুঞ্জন ছিল যে শান্ত টেস্টের নেতৃত্বও আর ধরে রাখবেন না।
শান্তর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ১৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে, যার মধ্যে ৪টিতে জয় পেয়েছে। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১টি, পাকিস্তানের বিপক্ষে ২টি এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১টি জয় এসেছে। ওয়ানডে ফরম্যাটে তার অধীনে ১৩ ম্যাচ খেলে দল ৪টি জয় পেয়েছে।
অধিনায়ক হিসেবে শান্তর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স বেশ ভালো ছিল, বিশেষ করে টেস্ট ও ওয়ানডেতে। টেস্টে তার ক্যারিয়ার গড় ৩২ হলেও অধিনায়ক হিসেবে তা বেড়ে ৩৬ হয়েছে। পুরো ক্যারিয়ারে ৭টি সেঞ্চুরি ও ৫টি ফিফটি করলেও অধিনায়কত্বের সময়ে তিনি ৩টি সেঞ্চুরি ও ২টি অর্ধশতক করেছেন। ওয়ানডেতে তার পারফরম্যান্স আরো উল্লেখযোগ্য; ক্যারিয়ার গড় ৩৪ হলেও অধিনায়ক হিসেবে তা ৫১। তার ক্যারিয়ার সেরা অপরাজিত ১২২ রানের ইনিংস এসেছে অধিনায়ক থাকাকালীন এবং তার স্ট্রাইক রেটও এই সময়ে উন্নতি লাভ করেছে।
তবে টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক হিসেবে শান্ত ভালো পারফর্ম করতে পারেননি। তার ক্যারিয়ার গড় এবং স্ট্রাইক রেট দুটোই এই ফরম্যাটে কমেছে।

