ক্লাব বিশ্বকাপে ঘটল এক অবিশ্বাস্য নাটকীয়তা। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটিকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিয়েছে সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলাল। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে রোমাঞ্চ ছিল, প্রত্যাবর্তন ছিল, আর ছিল শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা—যা ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে থাকবে বহুদিন।
শুধু আল হিলাল নয়, আরেক চমক এসেছে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্লুমিনেন্স থেকে, যারা ২-০ গোলে হারিয়েছে ইউরোপের আরেক জায়ান্ট ইন্টার মিলানকে। শুক্রবার কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে এই দুই অঘটনের নায়ক।
খেলার শুরুটা ছিল একেবারে প্রত্যাশিতভাবে। গোল পেতে সিটির সময় লাগেনি বেশি। মাত্র ১০ মিনিটেই অধিনায়ক বার্নার্দো সিলভা স্কোর করেন আল হিলালের ডিফেন্স ভুল করলে। এরপর ব্যবধান বাড়ানোর একাধিক সুযোগ পেয়েছিল সিটি, তবে আল হিলাল গোলরক্ষক বোনো একের পর এক সেভে রক্ষা করেন দলকে। বিশেষ করে সাভিনহো ও গুন্দোগানকে আটকে দেওয়া ছিল অসাধারণ।
প্রথমার্ধে কিছুটা চাপে থাকলেও বিরতির পর আল হিলাল যেন জন্ম নেয় নতুন উদ্যমে। মাত্র ৪৪ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে সমতায় ফেরান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড মার্কোস লিয়ান্দ্রো। আর ৫২ মিনিটে ম্যালকমের গোলে এগিয়েও যায় দলটি।
তবে এই ম্যাচে হাল ছেড়ে দেওয়ার দল নয় সিটি। ৫৫ মিনিটে কর্নার থেকে হেডে গোল করেন আরলিং হাল্যান্ড, ফিরিয়ে আনেন সমতা।
প্রথম ৯০ মিনিট ২-২ গোলে শেষ হলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। আর এখানেই জমে ওঠে নাটক। ৯৪ মিনিটে হেডে গোল করে আল হিলালকে এগিয়ে নেন কালিদু কুলিবালি। মনে হচ্ছিল, এখানেই হয়তো ম্যাচ শেষ।
কিন্তু না, ১০৪ মিনিটে গোল করে আবারও ম্যাচে ফেরেন ফিল ফোডেন। সমতা আবারও ফিরে আসে স্কোরবোর্ডে।
তবে শেষ হাসি হেসেছেন লিয়ান্দ্রোই। খেলা শেষ হওয়ার মাত্র আট মিনিট আগে দ্বিতীয়বারের মতো জালে বল পাঠিয়ে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ৪-৩ গোলের এই ঐতিহাসিক জয়ে আল হিলাল পৌঁছে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে।
এই দুর্দান্ত জয়ের পর শুক্রবার কোয়ার্টার ফাইনালে আল হিলালের প্রতিপক্ষ ফ্লুমিনেন্স—যারা নিজেরাও দারুণভাবে চমকে দিয়েছে ইউরোপিয়ান জায়ান্ট ইন্টার মিলানকে হারিয়ে।
এই ম্যাচ এখন পরিণত হয়েছে দুই ‘অঘটনের নায়ক’ মুখোমুখি হওয়ার মহারণে। কে যাবে সেমিফাইনালে, তা জানতে এখন অপেক্ষা মাত্র কয়েক ঘণ্টার।

