১২৪ বছর পর আবারও অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট, আর সেই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের দিন ঠিক হয়েছে ২০২৮ সালের ১২ জুলাই। লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের অংশ হিসেবে পোমোনা শহরের একটি অস্থায়ী স্টেডিয়ামে গড়াবে এই টুর্নামেন্ট, যেখানে পুরুষ ও নারী—দুই বিভাগেই অংশ নেবে ছয়টি করে দল।
পুরো আয়োজনটি বসবে ‘ফেয়ারগ্রাউন্ডস স্টেডিয়াম’-এ, যার মূল নাম ফেয়ারপ্লেক্স। ১৯২২ সাল থেকে এখানেই আয়োজন হয়ে আসছে এলএ কাউন্টি ফেয়ারসহ নানা ধরনের কনসার্ট, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ৫০০ একরের বিশাল এই কমপ্লেক্স এবার ইতিহাস গড়বে অলিম্পিকে ক্রিকেট ফেরানোর মধ্য দিয়ে।
পুরুষ ও নারী—দুই বিভাগ মিলিয়ে মোট ১৮০ জন ক্রিকেটার অংশ নেবেন টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে, প্রতিটি দলে থাকবে সর্বোচ্চ ১৫ জন সদস্য। বেশিরভাগ দিনই হবে ডাবল-হেডার ম্যাচ, অর্থাৎ দিনে দুইটি করে খেলা। ম্যাচগুলো শুরু হবে স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ও সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে। ফাইনাল ম্যাচগুলোর সময়সূচিও একই থাকবে।
তবে ১৪ ও ২১ জুলাই কোনো খেলা রাখা হয়নি। নারী ক্রিকেটের পদক নির্ধারণী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২০ জুলাই, আর পুরুষদের ফাইনাল হবে ২৯ জুলাই।
লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র ক্যারেন ব্যাস এই আয়োজনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এই অলিম্পিক শুধু একটি শহরের নয়, এটি পুরো একটি কমিউনিটির জন্য। আমরা চাই, প্রতিটি এলাকার মানুষ যেন এই আয়োজনের অংশ হয় এবং অলিম্পিক যেন রেখে যায় একটি চিরস্থায়ী ঐতিহ্য।”
তিনি আরও জানান, অলিম্পিক উপলক্ষে গঠিত প্লে-এলএ প্রোগ্রামের মাধ্যমে এরই মধ্যে ১০ লাখের বেশি অংশগ্রহণকারী নিবন্ধিত হয়েছেন, যা শহরের ক্রীড়াচর্চায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
১৯০০ সালের প্যারিস অলিম্পিকে প্রথম ও একবারই ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেখানে মাত্র দুটি দল—গ্রেট ব্রিটেন ও ফ্রান্স—অংশ নেয়। সেই দুই দিনের ম্যাচে স্বর্ণপদক জিতে নেয় গ্রেট ব্রিটেন।
এরপর থেকে ক্রিকেটের অলিম্পিকে ফেরার দাবি থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি এতদিন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খেলাটির বৈশ্বিক বিস্তার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০২২ সালে বার্মিংহ্যাম কমনওয়েলথ গেমসে নারীদের ক্রিকেট যুক্ত হয়, আর ২০১০, ২০১৪ ও ২০২৩ সালে এশিয়ান গেমসেও পুরুষ ও নারী ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের যৌথ আয়োজনে হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড প্রেইরি, লডারহিল ও নিউইয়র্কের মতো শহরগুলোতে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহও দেখিয়েছে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়ার লক্ষণ।
২০২৮ অলিম্পিক তাই শুধু একটি নতুন সূচনা নয়, বরং ক্রিকেটকে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের মূলমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করার এক বড় পদক্ষেপ। এখন দেখার অপেক্ষা—কে হতে যাচ্ছে সেই বহু প্রতীক্ষিত অলিম্পিক ক্রিকেট চ্যাম্পিয়ন!

