Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice সোম, এপ্রিল 27, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্যখাতের হাল বেহাল!
    স্বাস্থ্য

    বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্যখাতের হাল বেহাল!

    নিউজ ডেস্কএপ্রিল 27, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    রাহাদ সুমন, বরিশাল প্রতিবেদক—

    স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও দেড় কোটি অধিবাসীর বরিশাল বিভাগে স্বাস্থ্যখাতের আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। স্বাস্থ্যসেবার প্রকৃত সুফল থেকে ধান-নদী-খালের ঐতিহ্যসমৃদ্ধ দক্ষিণা জনপদ বরিশালের মানুষ আজও বঞ্চিত। এ অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়নি স্বাস্থ্যসেবা।

    বরিশাল বিভাগে স্বাস্থ্যসেবার হাল কখনোই ভালো ছিল না। বিভিন্ন সময় সরকার এই বিভাগের প্রায় দেড় কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে হাসপাতালের অবকাঠামো, রোগনির্ণয়ের সরঞ্জাম বাড়ালেও- সেসবের সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। বরং দিনে দিনে এই বিভাগের স্বাস্থ্যসেবার মান নিম্নমুখী হচ্ছে। এর মূলে রয়েছে তীব্র চিকিৎসক সংকট। যুগ যুগ ধরে স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টদের অজুহাত একটাই, এই অঞ্চলে চিকিৎসকেরা আসতে চান না। আবার এলেও ক’দিন বাদে তাঁরা তদবির করে বদলি হয়ে চলে যান রাজধানীসহ তাঁদের সুবিধামতো কর্মস্থলে। ফলে এখন বিভাগের সর্বত্র সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেসব চিকিৎসক টিকে আছেন, তাঁরা প্রায় সবাই স্থানীয়।

    আবার এই চিকিৎসকদের সম্পর্কে স্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে অভিযোগ আছে যে, তাঁরা নিজের এলাকায় চাকরি করার সুবিধা নিয়ে বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান খুলে নিয়মিত সেখানেই ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে বেশি সময় ব্যস্ত থাকছেন। নিজের কর্মস্থলে আসছেন খেয়ালখুশিমাফিক। স্থানীয় হওয়ায় এই চিকিৎসকেরা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রভাবশালীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে নিজেদের দায়িত্ব, কর্তব্য, অঙ্গীকারকে উপেক্ষার সুবিধা নেন। সচেতন নাগরিকেরা এ নিয়ে সোচ্চার হলেও তা খুব একটা কাজে আসে না। ফলে সরকারি হাসপাতালগুলো অনেকটাই অভিভাবকহীনভাবে চলছে।

    গত বছর আগস্টে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালসহ দেশের স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের তিন দফা দাবিতে বরিশালে অবরোধ, বিক্ষোভ ও অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন ছাত্র-জনতা। নথুল্লাবাদসহ নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে দিনের পর দিন চলা অবরোধে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়াসহ স্থবির হয়ে পড়ে জনজীবন। তখন দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন বন্ধ করা হলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বাস্থ্যখাতের সংস্কারের দাবি প্রতিশ্রুতির মধ্যেই রেখে বিদায় নেয়।

    বিশেষায়িত আধুনিক হাসপাতাল: ব্রিটিশ আমলের জেলা বরিশালে এখনও নেই বিশেষায়িত কোনো আধুনিক হাসপাতাল। এখানে থাকা শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটিরও রুগ্ণ দশা। ছোটখাটো রোগের চিকিৎসা হলেও বড় কিংবা জটিল কোনো অসুখের চিকিৎসা হয় না এখানে। একটা কিছু হলেই মানুষকে ছুটতে হয় রাজধানী ঢাকায়।

    বরিশাল নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘একদিকে বিভাগীয় শহর আর অন্যদিকে মেট্রোপলিটন সিটি, অথচ এই শহরে নেই হৃদরোগীদের উন্নত চিকিৎসা। সামান্য এনজিওগ্রাম করার জন্যও ছুটতে হয় ঢাকায়। একই সঙ্গে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে হয় ক্যানসার, স্ট্রোক আর হেড ইনজুরি সংক্রান্ত রোগীদের। এমনকি অর্থোপেডিক্সের কোনো জটিল সমস্যারও চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না এখানে। দক্ষ আর অভিজ্ঞ চিকিৎসক যে নেই তা নয়, নেই যন্ত্রপাতি। উন্নত চিকিৎসার জন্য যেসব উপাদান দরকার তার কিছুই নেই এখানে। সরকারের কাছে আমাদের চাওয়া, বরিশাল নগরীতে যদি একটি বিশেষায়িত আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়- তাহলে চিকিৎসা প্রশ্নে জীবন বাঁচানোর আশ্বাসটুকু অন্তত পাবে এই অঞ্চলের মানুষ।’

    বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এই হাসপাতালটি ৫০০ থেকে ১০০০ শয্যায় উন্নীত হলেও- এখনো তা চলছে আগের জনবল কাঠামোতেই। আর অবকাঠামোও বাড়েনি। পুরোনো জনবল কাঠামোর অনুকূলে যে চিকিৎসক পদ থাকার কথা, তার অর্ধেকের কম চিকিৎসক দিয়ে বছরের পর বছর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। আবার পুরোনো অবকাঠামোতে ১০০০ শয্যা বসানো হলেও প্রতিদিন গড়ে ২০০০ রোগী ভর্তি থাকছে এখানে।

    বিভাগের ৬টি জেলা হাসপাতালের ৪টিকে ১০০ থেকে আড়াইশ শয্যায় উন্নীত করে বড় বড় অবকাঠামো ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হলেও চিকিৎসক, টেকনোলজিস্ট, কর্মচারী সংকটে সেখানে কার্যত চিকিৎসাসেবা বলতে কিছু নেই। সেখানে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে যাদের অবস্থা একটু গুরুতর, তাদের রেফার্ড করা হয় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আর বিভাগের ৪২টি উপজেলার মধ্যে ৪০টিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে, সেসব চিকিৎসাকেন্দ্রে মূলত চিকিৎসাসেবা কার্যত নামে আছে, বাস্তবে নেই। চিকিৎসকসহ জনবল সংকটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ধুঁকছে।

    স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টদের মতে, জনসংখ্যার বিবেচনায় বরিশাল বিভাগের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে এমনিতেই চিকিৎসকের মঞ্জুরিকৃত পদের সংখ্যা কম। এর মধ্যে যতগুলো পদ আছে, তার ৪৬ শতাংশই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। ফলে চিকিৎসক সংকটে বিভাগের প্রায় দেড় কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

    বিভাগের দেড় কোটি মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় প্রধান ভরসা শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) দেশের দক্ষিণের বিভাগীয় শহর প্রাচ্যের ভেনিসখ্যাত বরিশালের দক্ষিণ আলেকান্দা এলাকায় অবস্থিত চিকিৎসা বিষয়ক সেবা ও উচ্চশিক্ষা দানকারী একটি প্রতিষ্ঠান। সরাসরি সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়; যা বর্তমানে দেশের একটি অন্যতম প্রধান চিকিৎসা বিজ্ঞান বিষয়ক শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান। এটি পুরোনো ৮টি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মধ্যে অন্যতম।

    ১৯৬৪ সালের ৬ নভেম্বর এই মেডিকেল কলেজের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। পরে ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন এর নাম ছিল বরিশাল মেডিকেল কলেজ, যা পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে বরিশালের মহান নেতা শের-ই-বাংলা (বাংলার বাঘ) নামে খ্যাত আবুল কাশেম ফজলুল হকের নামে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নামকরণ করা হয়। এ দেশের চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণা এবং জনগণের স্বাস্থ্যসেবার সার্বিক উন্নতিকল্পে দক্ষিণ বাংলার আপামর জনসাধারণের জন্য নির্মিত বরিশাল মেডিকেল কলেজ আজ থেকে ৫৮ বছর আগে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শুরু করে।

    মাত্র ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যে মেডিকেল কলেজ যাত্রা শুরু করেছিল সেখানে এখন প্রতিবছর আড়াই শত ছাত্র-ছাত্রী এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হয়। এই বিদ্যাপীঠ হতে শিক্ষা অর্জন করে হাজার হাজার চিকিৎসক দেশ-বিদেশে চিকিৎসাসেবা, শিক্ষাকতা ও গবেষণায় ব্রত রয়েছেন। সামগ্রিকভাবে এ দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি স্তরে যে পরিমাণ মানসম্পন্ন চিকিৎসক প্রয়োজন তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই মেডিকেল কলেজ থেকে উঠে আসে।

    ঐতিহ্যসমৃদ্ধ শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি এখন নানা সমস্যা ও সংকটে ধুঁকছে: বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি দক্ষিণবঙ্গের প্রায় দেড় কোটি মানুষের চিকিৎসা সেবার অন্যতম প্রধান ভরসা হলেও বর্তমানে এটি নানা সমস্যা ও সংকটে জর্জরিত। অতিরিক্ত রোগীর চাপ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা হাসপাতালটির সেবার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

    শেবাচিম হাসপাতালের প্রধান সমস্যা ও সংকটের চিত্র: ওষুধ ও সরঞ্জামের তীব্র সংকট: প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসার সরঞ্জামের তীব্র সংকট রয়েছে, যার ফলে রোগীদের বাইরে থেকে বেশি দামে ওষুধ কিনতে ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বাধ্য হতে হয়।

    অতিরিক্ত রোগীর চাপ ও বেড সংকট: শয্যা সংখ্যার তুলনায় রোগী অনেক বেশি হওয়ায় মেঝে, বারান্দা এমনকি সিঁড়ির পাশে ফ্লোরে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে বিশেষ করে শীতকালে রোগীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। এ হাসপাতালে শিশু আইসিইউ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন রোগীর অভিভাবকরা। এ কারণে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে ক্রিটিক্যাল রোগীদের। আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় ঢাকায় নেওয়ার মতো অবস্থাও থাকে না অনেকের।

    মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের দৌরাত্ম্য: সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হাসপাতালে রিপ্রেজেন্টেটিভদের অবাধ বিচরণ রোগীদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।

    দায়িত্বে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ: সেবিকাদের দায়িত্ব অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ প্রায়শই উঠে আসে। সম্প্রতি এক নার্সের ভুল ইনজেকশনে দুই নারী রোগীর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

    দালালদের দৌরাত্ম্য: হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য ও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের, যারা রোগী ও স্বজনদের থেকে অর্থ হাতানোসহ বিভিন্ন ভোগান্তির মধ্যে ফেলে।

    রোগ নির্ণয় (পরীক্ষার) যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা: হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ধীরগতির, যার ফলে আধুনিক চিকিৎসা সেবা পুরোপুরি পাওয়া যায় না। প্রয়োজনীয় রোগ নির্ণয় মেশিন না থাকায় বাইরে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে গিয়ে অধিক ব্যয় ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ফলে রোগীরা শতভাগ সরকারি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    রোগীর চাপ ও শয্যা সংকট: রোগীর অত্যধিক চাপ ও শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেবা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

    অপ্রতুল জনবল: জনবল সংকট ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ অনেক সময় সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। রোগীর তুলনায় চিকিৎসক, নার্স ও ওয়ার্ড বয়ের সংখ্যা কম, যা উন্নত সেবা প্রদানে বড় বাধা।

    চিকিৎসক সংকটে হিমশিম খাচ্ছে এ হাসপাতাল। হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মঞ্জুরিকৃত পদের প্রায় ৫৮.৯ ভাগ এবং সাধারণ চিকিৎসকের প্রায় ২৯.১ ভাগ পদ শূন্য। এখানে বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ চিকিৎসকের ৫৭১ পদের মধ্যে ২৪০টি পদ শূন্য, কর্মরত আছেন ৩৩১ জন চিকিৎসক। এতে প্রায় দেড় কোটি অধিবাসীর দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র উন্নত এ হাসপাতালে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে চিকিৎসক সংকট দূর করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ জনগণসহ সচেতন মহল।

    তথ্যানুযায়ী, শেবাচিম হাসপাতালে অধ্যাপক, সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপক মানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট সবচেয়ে বেশি। এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মানে অধ্যাপক পদে ৫১টি পদ মঞ্জুর করা থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ১৩ জন; বাকি ৩৮টি পদ শূন্য। সহযোগী অধ্যাপকের ৭৪টি পদের মধ্যে ৩৬টি পদ শূন্য, কর্মরত আছেন ৩৮ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। সহকারী অধ্যাপকের ১২৩ পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৫১ জন, বাকি ৭২টি পদ শূন্য। এ হিসাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (অধ্যাপক, সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপক) পদে মোট ২৪৮টি পদ মঞ্জুর করা থাকলেও এখানে প্রায় ৫৮.৯ ভাগ অর্থাৎ ১৪৬টি পদ শূন্য অবস্থায় রয়েছে। এখানে কর্মরত আছেন ১০২ জন চিকিৎসক।

    বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াও সাধারণ চিকিৎসকের অন্যান্য পদেও সংকট রয়েছে। এ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বাদে মঞ্জুরিকৃত সাধারণ চিকিৎসকের ৩২৩টি পদের মধ্যে ২৯.১ ভাগ অর্থাৎ ৯৪টি পদ শূন্য; কর্মরত আছেন ২২৯ জন। এর মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্টের মঞ্জুরিকৃত ৮ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪ জন, বাকি ৪টি পদ শূন্য। আবাসিক চিকিৎসকের ১২ পদের মধ্যে ২টি এবং রেজিস্ট্রার পদের ৪৯টির মধ্যে ১৫টি পদ শূন্য। সহকারী রেজিস্ট্রারের ৯৬টি পদের মধ্যে ৩০টি এবং অ্যানেস্থেসিওলজিস্টের (মেডিকেল অফিসার) ১৪টি পদের মধ্যে ২টি পদ খালি। ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের ১০টি পদের মধ্যে ৬টি এবং সহকারী সার্জন (আন্ত ও বহির্বিভাগ) পদের ২২টির মধ্যে ১৪টি শূন্য। রেডিওলজিস্টের ৪টি পদের মধ্যে ২টি এবং ক্লিনিক্যাল প্যাথলজিস্টের ৫ পদের মধ্যে ১টি শূন্য। মেডিকেল অফিসারের (ওপিডি) ২৮ পদের মধ্যে ১টি এবং মেডিকেল অফিসারের (আইএমও) ৪০টি পদের মধ্যে ৪টি শূন্য। মেডিকেল অফিসারের (নেফ্রোলজি) ৩টি পদের মধ্যে ২টি শূন্য।

    এছাড়া, ডেন্টাল সার্জনের ১৩ পদের মধ্যে ৯টি পদ খালি রয়েছে। কাগজে-কলমে ১ হাজার শয্যার এ হাসপাতালের আন্তবিভাগেই প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার রোগী ভর্তি থেকে সেবা নিচ্ছে।

    বহির্বিভাগে আরো প্রায় ২ হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। এসব রোগীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে যে সংখ্যক চিকিৎসক দরকার, সেই সংখ্যক পদ আজ পর্যন্ত মঞ্জুর করা হয়নি। যে সংখ্যক চিকিৎসকের পদ মঞ্জুর করা হয়েছে, তাতেও শতভাগ পদায়ন নেই।

    হাসপাতালে দায়িত্বরত একাধিক চিকিৎসক বলেন, চিকিৎসক সংকট থাকায় আমরা রোগীদের পর্যাপ্ত সময় দিতে পারি না। রোগী শাকিলা আক্তার বলেন, হাসপাতালের বহির্বিভাগের চিকিৎসক দেখাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। চিকিৎসক সংকটের কারণে ওয়ার্ডগুলোতে ভর্তি রোগীরাও শতভাগ সেবা পাচ্ছে না।

    বরিশাল সচেতন নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসাস্থল শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট দ্রুত দূর করতে হবে। তা না হলে রোগীরা কখনোই কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবে না।

    শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মশিউল মুনীর বলেন, চিকিৎসক সংকটের মধ্যেও আমরা সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করে যাচ্ছি। শূন্যপদে নিয়োগে নিয়মিত মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন বলে জানান তিনি।

    এইসব সংকট নিরসনে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, জনবল বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    বাংলাদেশ

    আ. লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন

    এপ্রিল 27, 2026
    অর্থনীতি

    সফট সেভিং কী এবং কেন জনপ্রিয় হচ্ছে?

    এপ্রিল 27, 2026
    বাংলাদেশ

    ই-বাইকে গতি, বদলাচ্ছে নগর পরিবহন চিত্র

    এপ্রিল 27, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.