দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, সোমবার সকাল আটটা থেকে মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ের মধ্যেই এই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজনের বাড়ি ঢাকা বিভাগে, বাকি দুজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগে কারও মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি—মৃত তিনজনই হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১৮ জনে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৮১৯ জন, আর পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে ৯৯ জনের। রোগতত্ত্ববিদদের মতে, প্রাদুর্ভাবকালে হামের লক্ষণ নিয়ে যত মৃত্যু ঘটে, সেগুলোকেও হামজনিত মৃত্যু হিসেবেই ধরা হয়—কারণ প্রতিটি ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ল্যাব পরীক্ষা করে নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই নিয়মিত পরিসংখ্যানে রোগীদের বয়সভিত্তিক কোনো বিভাজন উল্লেখ থাকে না। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হাম যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারলেও শিশুরাই এই রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে।
সংক্রমণের সার্বিক চিত্রও উদ্বেগজনক। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এই নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৮০ জনের শরীরে হামের লক্ষণ পাওয়া গেছে। এছাড়া গত এক দিনে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে আরও ৫৯ জনের শরীরে, যা নিয়ে মোট নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৯৮৯ জনে।
হাসপাতালে ভর্তির চিত্র বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ২৮৯ জন রোগী চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৮৮০ জন, যা স্বস্তিদায়ক হলেও প্রতিদিন নতুন রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু ৯০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সেই সংখ্যা আরও বেড়ে যাওয়া প্রাদুর্ভাবের তীব্রতা এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপকেই স্পষ্ট করে তুলছে।

