দেশের প্রত্যন্ত ও অবহেলিত এলাকাগুলোতে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যেসব ছোট ছোট এলাকায় এখনও শিশুরা টিকার আওতার বাইরে রয়ে গেছে, তাদের সবাইকে টিকা দিতে মজুত থাকা প্রায় ১৬ লাখ ডোজ ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি হাম আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা আরও কার্যকর করতে চিকিৎসা নির্দেশিকা ব্যাপকভাবে প্রচার এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত টিকাবিষয়ক আন্তসংস্থা সমন্বয় কমিটির এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফসহ একাধিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্যসচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মূলত কারা হামে আক্রান্ত হচ্ছেন, তা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা হয়।
আলোচনায় উঠে আসে, হামে আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশের বয়স ছয় মাসের কম। সবচেয়ে বড় অংশ, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ রোগীর বয়স ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে। এছাড়া পাঁচ থেকে দশ বছর বয়সীদের মধ্যে আক্রান্তের হার ১৪ শতাংশ, আর বাকি সামান্য অংশের বয়স দশ থেকে চৌদ্দ বছর বা তার বেশি। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দেয়, রোগটি মূলত শিশুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, বিশেষত পাঁচ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।
স্বাস্থ্যসচিব জানিয়েছেন, দেশের কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশু এখনও টিকার আওতায় আসেনি। এই ঘাটতি পূরণেই এখন বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে, আর এ কাজের জন্য বর্তমানে হাতে থাকা ১৬ লাখ টিকাই যথেষ্ট বলে মনে করছেন তিনি।
সোমবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মোট প্রায় এক কোটি ৯৪ লাখ শিশুকে হামের প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। টিকা পাওয়া এসব শিশুর সবার বয়স ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে।
তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে, যা নিয়ে চলতি বছর উপসর্গজনিত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮১৫ জনে। এর বাইরে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে মারা গেছেন ৯৯ জন। দুই হিসাব একত্র করলে চলতি বছর হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ৯১৪ জনে। মৃতদের একটি বড় অংশের বয়স পাঁচ বছরের নিচে, এবং তাদের অধিকাংশই আগে কখনও টিকা পায়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, টিকাবঞ্চিত শিশুরাই হাম-জনিত মৃত্যুর ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি রয়েছে। ফলে প্রত্যন্ত ও বাদ পড়া এলাকাগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণের এই উদ্যোগ শিশুমৃত্যু কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের অভিমত, শুধু টিকা সরবরাহ নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অভিভাবকদের টিকাদান কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছানোর ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা জরুরি, তা না হলে বাদ পড়া শিশুদের পুরোপুরি টিকার আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়বে।

