সরকারের প্রথম ছয় মাসে স্বাস্থ্য খাতে বেশ কিছু বড় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা ছিল। নির্বাচনী অঙ্গীকারে বিনামূল্যে মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়ানো, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছিল। পরে ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচিতেও এসব উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয় ই-স্বাস্থ্য কার্ড চালু, স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ।
কিন্তু ছয় মাস পেরিয়ে চিত্রটি এখনো প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি মেলেনি। সবচেয়ে আলোচিত ই-স্বাস্থ্য কার্ড এখনো নাগরিকদের হাতে পৌঁছায়নি। স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও শুরু হয়নি। জনসচেতনতা কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। ফলে স্বাস্থ্য খাতে সরকারের ঘোষণা, বাজেট ও বাস্তব সেবার মধ্যে যে দূরত্ব দীর্ঘদিন ধরে ছিল, তা এখনো কাটেনি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাজেট বেড়েছে, কিন্তু মানুষের খরচ কমেনি
স্বাস্থ্য খাতে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। ২০২৭ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। আগের বছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় এটি ৯৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। জাতীয় বাজেটের ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং মোট দেশজ উৎপাদনের ১ দশমিক ০১ শতাংশ এই খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বরাদ্দের এই বড় বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে সরকারের স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি বার্তা দেয়। কিন্তু শুধু বাজেট বাড়লেই সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হয় না। হাসপাতালের সেবা, চিকিৎসকের উপস্থিতি, ওষুধের প্রাপ্যতা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ, জরুরি চিকিৎসা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের নিজের পকেট থেকে ব্যয়—এসব জায়গায় বাস্তব পরিবর্তন না এলে বাড়তি বরাদ্দের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছানো কঠিন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এম মুশতাক হোসাইনও মনে করছেন, বরাদ্দ বাড়লেও পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের দুর্বলতার কারণে অর্থের একটি বড় অংশ অব্যবহৃত থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর যুক্তি, মানুষের কাছে বাজেটের আকারের চেয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়ে কতটা খরচ হচ্ছে এবং কত সহজে সেবা পাওয়া যাচ্ছে—সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এখানেই সরকারের সামনে বড় প্রশ্নটি দাঁড়ায়: স্বাস্থ্য খাতে অর্থ বাড়ানোর পর সেই অর্থ কতটা কার্যকরভাবে মানুষের সেবায় রূপান্তর করা যাচ্ছে?
ই-স্বাস্থ্য কার্ডের প্রতিশ্রুতি এখনো কাগজে
সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ ছিল ই-স্বাস্থ্য কার্ড। পরিকল্পনা অনুযায়ী, খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদীতে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্ড বিতরণের কথা ছিল। পরে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে তা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও ওই পাঁচ জেলার নাগরিকদের হাতে কার্ড পৌঁছায়নি।
স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, এ ব্যবস্থার জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ডিজিটাল স্বাস্থ্যতথ্য যুক্ত করতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে সরকার কাজ করছে।
অর্থাৎ উদ্যোগটি এখনো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি পর্যায়েই রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছেও কার্ড বিতরণ শুরুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পৌঁছায়নি।
এ অবস্থায় ই-স্বাস্থ্য কার্ড শুধু একটি প্রযুক্তিগত প্রকল্প নয়, বরং সরকারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সংস্কারের সক্ষমতার একটি পরীক্ষাও হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ একজন নাগরিকের চিকিৎসার ইতিহাস, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য যদি একটি সমন্বিত ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা যায়, তাহলে চিকিৎসা ব্যবস্থায় ধারাবাহিকতা বাড়তে পারে। কিন্তু পরিকল্পনা দীর্ঘায়িত হলে এর সুফলও পিছিয়ে যাবে।
প্রশিক্ষণের প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়নের অপেক্ষায়
সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচিতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের বিশেষ প্রশিক্ষণের কথা ছিল। কিন্তু ছয় মাস পরও সেই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়নি বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য খাতে নতুন অবকাঠামো তৈরি করলেই সেবা উন্নত হয় না। দক্ষ চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসা-প্রযুক্তিবিদ, ব্যবস্থাপক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী ছাড়া অবকাঠামো অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারে না।
এর একটি উদাহরণ হতে পারে সাভারে নির্মিত বাংলাদেশ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণ শেষ হয়েছে ২০২২ সালে। কিন্তু এখনো সেখানে কার্যক্রম শুরু হয়নি।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম মুহিত সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে বলেছেন, আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এটি দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেননি পরিচালক শায়ফুর রহমান।
অর্থাৎ একদিকে প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গীকার রয়েছে, অন্যদিকে প্রশিক্ষণের জন্য তৈরি প্রতিষ্ঠানও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। এই ব্যবধান স্বাস্থ্য খাতে বাস্তবায়ন সক্ষমতার একটি বড় দুর্বলতা নির্দেশ করে।
হাম: বড় সংকটের সামনে সীমিত প্রস্তুতি
সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাস্থ্য খাতের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলোর একটি ছিল ভয়াবহ হাম পরিস্থিতি।
চলতি বছরে হাম আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৯১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩১৬ জন। আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু।
সরকার এই পরিস্থিতির জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার টিকার ঘাটতিকে দায়ী করেছে। কিন্তু রোগ ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতাল ব্যবস্থাপনাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। হাসপাতাল থেকে ফিরে অনেক শিশুর হাম আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এতে শুধু টিকা সরবরাহ নয়, হাসপাতালগুলোতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, রোগী ব্যবস্থাপনা এবং শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূলত সংকটের সময়ই সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝা যায়। একটি রোগের প্রাদুর্ভাব যখন ব্যাপক আকার নেয়, তখন শুধু চিকিৎসা দেওয়া যথেষ্ট নয়। দ্রুত শনাক্তকরণ, টিকা, নজরদারি, সংক্রমণ প্রতিরোধ, জনসচেতনতা এবং মাঠপর্যায়ে সমন্বিত ব্যবস্থা একসঙ্গে কাজ করতে হয়।
জরুরি ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণেও পিছিয়ে যাওয়া
স্বাস্থ্য খাতে সরকারের আরেকটি সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ থেকে সরকার সরে এসেছে বলে বিশেষজ্ঞরা সমালোচনা করেছেন।
৩ আগস্ট মন্ত্রিসভা প্রয়োজনীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬ এবং ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬ বাতিল করে। অন্তর্বর্তী সরকার ৮ জানুয়ারি এই দুটি ব্যবস্থা চালু করেছিল। এর মাধ্যমে তিন দশকের বেশি সময় পর প্রয়োজনীয় ওষুধের কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
নতুন ব্যবস্থায় মূল্য নিয়ন্ত্রিত সাধারণ ওষুধের সংখ্যা ১১৭ থেকে বাড়িয়ে ২৯৫ করা হয়েছিল। পাশাপাশি ওষুধের দাম নির্ধারণে নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল, যাতে সরকারের নজরদারি বাড়ে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের জন্য ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ নীতি কী হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়ের বড় অংশই অনেক পরিবারের জন্য ওষুধ কেনার সঙ্গে যুক্ত।
ডেঙ্গুর নতুন উদ্বেগ
হামের পাশাপাশি ডেঙ্গুও এ বছর নতুন করে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ২৪ হাজার ৮৪৮ জন। অথচ এডিস মশার বিস্তার ঠেকাতে সরকারি উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রতিবছরই অভিযান, মশক নিধন ও সচেতনতার কথা বলা হয়। কিন্তু যদি রোগের প্রকোপ কমাতে না পারে, তাহলে শুধু অভিযান পরিচালনার পরিসংখ্যান দিয়ে কার্যকারিতা প্রমাণ করা কঠিন।
এখানে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি নগর ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি। বিচ্ছিন্ন অভিযান দিয়ে মৌসুমি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
সরকার বলছে, কাজ শুরু হয়েছে
সরকার অবশ্য স্বাস্থ্য খাতে তাদের নেওয়া উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দেশের ৩১ ও ৫০ শয্যার উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আরও ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের পাশাপাশি নার্স, চিকিৎসা-প্রযুক্তিবিদ, ফার্মাসিস্ট ও ধাত্রীদের শূন্য পদ পূরণের কাজ চলছে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, ক্যানসার শনাক্তকরণ, নিরাপদ মাতৃত্ব এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছেন।
সরকারের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলামও সরকারের পক্ষ সমর্থন করে বলেছেন, ছয় মাসের মধ্যেই স্বাস্থ্য খাতের উদ্যোগের চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। তাঁর দাবি, বিরোধী দলে থাকাকালে বিএনপি যে স্বাস্থ্য পরিকল্পনা তৈরি করেছিল, সরকার এখন সেটিই বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।
এ ছাড়া হৃদ্যন্ত্রের স্টেন্ট, হৃদ্যন্ত্রের ছন্দ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র, চোখের লেন্স এবং কিডনি পরিশোধনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা উপকরণ ও সেবার দাম কমানোর কথাও সরকার জানিয়েছে।
প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা
স্বাস্থ্য খাতে সরকারের প্রথম ছয় মাসের চিত্র বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট—ঘোষণা ও উদ্যোগের অভাব নেই, কিন্তু দৃশ্যমান ফলাফল এখনো সীমিত।
ই-স্বাস্থ্য কার্ড চালু হয়নি। স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়নি। সাভারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট এখনো কার্যক্রমে আসেনি। হাম ও ডেঙ্গুর মতো রোগ নিয়ন্ত্রণেও প্রত্যাশিত সাফল্য দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের নীতি বাতিল হওয়ায় জনস্বার্থ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় স্বাস্থ্য খাতে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থের পরিমাণ নয়, বরং সেই অর্থকে কার্যকর সেবায় রূপান্তর করা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বেনজীর আহমেদ মনে করেন, শুধু ঘোষণা ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার সম্ভব নয়। সরকার কী করতে চায়, কীভাবে করবে এবং জনগণ কখন তার ফল দেখতে পাবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশ করা প্রয়োজন।
এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল্যায়ন কাগজে লেখা অঙ্গীকার দিয়ে হয় না। একজন সাধারণ মানুষ চিকিৎসকের কাছে কত দ্রুত যেতে পারছেন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে পারছেন কি না, ওষুধ কিনতে গিয়ে কতটা আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন এবং সরকারি হাসপাতালে যথাযথ সেবা পাচ্ছেন কি না—এসবই শেষ পর্যন্ত সাফল্যের প্রকৃত মাপকাঠি।
সরকারের সামনে এখন তাই দুটি পথ। একদিকে বাজেট, নিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নের মতো প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ চালিয়ে যাওয়া; অন্যদিকে সেই পদক্ষেপগুলোকে দ্রুত ও দৃশ্যমান সেবায় পরিণত করা।
ছয় মাসে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়—সরকারের এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য। কিন্তু ছয় মাসে অন্তত বাস্তবায়নের স্পষ্ট অগ্রগতি, সময়সীমা ও জবাবদিহির কাঠামো দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন।
কারণ স্বাস্থ্যসেবায় অপেক্ষার মূল্য অনেক সময় অর্থের চেয়েও বেশি। একজন অসুস্থ মানুষের জন্য একটি কার্যকর হাসপাতাল, সময়মতো চিকিৎসা কিংবা সাশ্রয়ী ওষুধের সুযোগ কোনো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়—এটি নাগরিকের মৌলিক প্রয়োজন।
শেষ পর্যন্ত সরকারকে বিচার করা হবে কত বড় বাজেট ঘোষণা করেছে, কতগুলো পরিকল্পনা নিয়েছে বা কতগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা দিয়ে নয়; বরং মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার পথ কতটা সহজ, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত হয়েছে—সেটি দিয়ে।

