দেশজুড়ে হাম ও এর উপসর্গে শিশুমৃত্যুর ধারাবাহিকতা এখনো থামেনি। সর্বশেষ চব্বিশ ঘণ্টায় আরও চারটি শিশু প্রাণ হারিয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে, যদিও এই সময়সীমায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়া কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সময়ে নতুন করে হাম বা এর উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়েছে মোট এক হাজার ১৮ জন শিশু, যা পরিস্থিতির তীব্রতা এখনো কমেনি বলেই ইঙ্গিত দেয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বুধবার বিকেলে তাদের নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ যখন থেকে এই প্রাদুর্ভাবের হিসাব রাখা শুরু হয়েছিল, তখন থেকে আজ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোট ৮২৩ জনে। এর বাইরে সরাসরি হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৯ শিশু। দুই হিসাব একত্র করলে গত পাঁচ মাসের বেশি সময়ে হাম-সংক্রান্ত কারণে মোট প্রাণহানির সংখ্যা পৌঁছেছে ৯২২ জনে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি উদ্বেগজনক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক চব্বিশ ঘণ্টার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই সময়ে সরাসরি হাম রোগে নতুন আক্রান্ত হয়েছে ৮৭ শিশু, আর হামের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে গেছে ৯৩১ জন। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৮৭ শিশু, আবার চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯২৫ জন। ভর্তি ও ছাড়পত্রের এই সংখ্যা থেকে বোঝা যায়, হাসপাতালগুলোতে রোগী ব্যবস্থাপনার চাপ অব্যাহত থাকলেও চিকিৎসা প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সচল রয়েছে।
সামগ্রিক পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে প্রাদুর্ভাবের ব্যাপকতা আরও স্পষ্ট হয়। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪৫ হাজার ৭১১ জনে, যেখানে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৭৬। এই বিপুল ব্যবধান থেকে বোঝা যায়, উপসর্গ থাকা রোগীর একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হাম রোগী হিসেবে চিহ্নিত হয়নি, যদিও তাদের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তির সামগ্রিক চিত্রও উল্লেখযোগ্য। এখন পর্যন্ত মোট এক লাখ ২৭ হাজার ৭৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যাদের মধ্যে এক লাখ ২২ হাজার ৮০৫ জন সুস্থ হয়ে ইতিমধ্যে বাড়ি ফিরে গেছে। এই সংখ্যা থেকে বোঝা যায় যে চিকিৎসাধীন রোগীর হার তুলনামূলকভাবে কম, তবে প্রতিদিন নতুন রোগী যুক্ত হওয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই প্রাদুর্ভাব এবং প্রতিদিন গড়ে একাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা দেশের টিকাদান কর্মসূচি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোর দুর্বলতাগুলো নতুন করে সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়মতো টিকা না পাওয়া শিশুদের মধ্যেই সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি, এবং প্রত্যন্ত এলাকায় টিকাদানের আওতা বাড়ানো ছাড়া এই ধারাবাহিক মৃত্যু ঠেকানো কঠিন হবে। অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, শিশুর জ্বর, ফুসকুড়ি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার জন্য, যাতে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা যায় এবং জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়।

