দেশজুড়ে হাম পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত এক দিনেই হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গজনিত কারণে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৯২৫ জনে। এর মধ্যে সরাসরি হাম শনাক্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৯ জনের, আর বাকি ৮২৬ জন মারা গেছেন রোগের উপসর্গ নিয়ে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগেই মারা গেছে দুই শিশু, আর সিলেট বিভাগে প্রাণ হারিয়েছে আরও একজন।
একই সময়ে দেশজুড়ে নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৮ জনের শরীরে, আর রোগের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে গেছেন আরও এক হাজার চারজন। এই হিসাবে গত পাঁচ মাসেরও বেশি সময়ে (১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত) সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় লাখ, যার মধ্যে সরাসরি হাম নিশ্চিত হয়েছে আঠারো হাজারের বেশি মানুষের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে আরও উঠে এসেছে, একই সময়সীমায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় সোয়া লাখ রোগী। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ত্রিশ হাজারের কাছাকাছি সংখ্যক রোগী, যা কিছুটা স্বস্তির খবর হলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়ে গেছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
দীর্ঘমেয়াদি এই প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি শিশুদের হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

