কলেরা প্রতিরোধে দেশব্যাপী একযোগে শুরু হয়েছে মুখে খাওয়ার প্রতিষেধক টিকাদান কার্যক্রম। আজ শনিবার থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়ে চলবে আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই ধাপে। প্রথম ডোজ দেওয়া হবে আজ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, আর দ্বিতীয় ডোজ শুরু হবে ২৬ আগস্ট থেকে, যা চলবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। দেশের ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত মোট ১৪টি উপজেলা ও থানায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এই ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি মিলনায়তনে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী নিজে একটি শিশুকে টিকা খাইয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ওই অনুষ্ঠান থেকেই কর্মসূচির বিস্তারিত রূপরেখা জানানো হয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কলেরা থেকে পূর্ণ সুরক্ষা পেতে হলে ১৪ দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজই গ্রহণ করা আবশ্যক। এক বছর বা তার বেশি বয়সী প্রত্যেক নাগরিক এই টিকা বিনামূল্যে পাবেন, তবে গর্ভবতী নারীদের এই কর্মসূচির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত টিকাদান কেন্দ্রগুলো খোলা থাকবে। সারা দেশে সব মিলিয়ে প্রায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কর্মসূচির বিস্তারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীন লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর থানার ১৭টি ওয়ার্ডে মোট ১৯২টি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকার আওতায় আনা হবে। এর পাশাপাশি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এলাকায়ও এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে। রাজধানীর বাইরে মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নির্দিষ্ট কিছু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাও এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘনবসতিপূর্ণ ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই টিকাদান কর্মসূচি সাজানো হয়েছে, যাতে সীমিত সম্পদের মধ্যেও সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুই ডোজ সম্পন্নের হারের ওপর, কারণ শুধু প্রথম ডোজ গ্রহণে প্রত্যাশিত সুরক্ষা মেলে না।

