দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের জনবল সংকট নিরসনে এবার ‘অতীব জরুরি’ চিঠি পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতাধীন সারা দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডের শূন্য পদে জরুরি ভিত্তিতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার (২০ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠিটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন সব পরিচালক, সিভিল সার্জন, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এবং সংশ্লিষ্ট উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভার সিদ্ধান্ত এবং সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে চিঠিতে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই এক লাখ পদে কারা যোগ্য? স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ‘নন-মেডিক্যাল কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-২০১৮’ অনুযায়ী পদোন্নতি এবং সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডের সব শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলোকেও সচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে চিঠিতে। এর আগে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যেসব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও আবেদন গ্রহণ করা হলেও নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হয়নি, সেসব প্রতিষ্ঠানে নতুন করে শূন্য পদের ছাড়পত্র নিয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। আগের সময়ে নেওয়া আবেদনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। কোনো স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ নিয়ে মামলা বা প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে তা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পদোন্নতির জটিলতা দূর করা। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘নন-মেডিক্যাল কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-১৯৮৫’ অনুযায়ী বিভাগীয় কার্যালয়সহ সিভিল সার্জনের নিয়ন্ত্রণাধীন কিছু স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ১৩তম গ্রেডের প্রধান সহকারী পদ রয়েছে। কিন্তু ২০১৮ সালের বিধিমালায় এসব পদ ১৪তম গ্রেড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় পদোন্নতিতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ১৪তম গ্রেডে কর্মরত প্রধান সহকারী, উচ্চমান সহকারী বা সমমানের পদধারীদের ১৩তম গ্রেডের শূন্য পদে নিজ বেতনে বা চলতি দায়িত্বে পদায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
নিয়োগ কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। দেশের সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের নিয়োগসংক্রান্ত অগ্রগতির তথ্য নির্ধারিত ছকে প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখায় পাঠাতে হবে। হার্ডকপির পাশাপাশি ই-মেইলেও এসব তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতের এই বিশাল জনবল নিয়োগ উদ্যোগকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার ইতিমধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে, যার অংশ হিসেবে ডাক্তার ও ওষুধের সংকট মোকাবিলায় এই নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে স্বাস্থ্যখাতে এই এক লাখ কর্মী যোগ দিলে গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন শুধু অপেক্ষা, কবে নাগাদ এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়।

