এই প্রতিবেদনটি ফেসবুকের ভেরিফায়েড পেজ হাসান মুর্শেদ থেকে সংগৃহীত। মূল লেখায় কোনো পরিবর্তন, সংযোজন বা সম্পাদনা করা হয়নি। পাঠকদের অবগতির জন্য লেখাটি নিচে হুবহু প্রকাশ করা হল।
হামের উপসর্গে দুই ছেলের মৃত্যু হয়েছে। সেই তাজা শোক বুকে নিয়ে অসুস্থ আরও দুই সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে মা নাংয়ো খুমি।
তৈসাং ও নাংয়ো খুমি দম্পতির দুই ছেলে চার বছর বয়সী প্রেলং খুমি ও সাত বছর বয়সী খ্রেতং খুমিকে বান্দরবানের রুমা উপজেলার লেংটংপাড়ায় পাশাপাশি দুটি কবরে সমাহিত করা হয়। তৈসাং ও নাংয়ো দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে দুই সন্তান পরপর মারা গেল হামের উপসর্গ নিয়ে। ২৫ জুলাই খ্রেতং আর ২৭ জুলাই প্রেলংয়ের মৃত্যু হয়।
রোববার খ্রেতংকে যেখানে সমাহিত করা হয়েছিল, মঙ্গলবার তার পাশেই প্রেলংকে কবর দেওয়া হয়। দুই ছেলের মৃত্যু ও শেষকৃত্যের শোক আর ধকল সয়ে নেওয়ার সময় পাননি এই দম্পতি। আক্রান্ত আরও দুই সন্তানকে নিয়ে গতকাল বুধবার রাতে জেলা সদর হাসপাতালে এসেছেন তাঁরা। সেখানেই এখন ভর্তি ১১ বছরের ছেলে পথাং এউং ও সাত মাস বয়সী মেয়ে লিংথং এ খুমি।
বান্দরবান সদর হাসপাতালে হামের রোগীদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২৯ জন রোগী রয়েছে। রোগীদের অধিকাংশই শিশু। সবাই প্রায় দুর্গম এলাকার বাসিন্দা। চিম্বুক পাহাড়ের রুইয়াংপাড়ার পাঁচজন রোগী রয়েছে তাদের মধ্যে।
রুমার আর্থাপাড়া থেকে এক রোগীর সঙ্গে আসা ইউপি সদস্য মৈথাং বম জানান, তাঁদের এলাকায় দুই বছর ধরে সরকারি ও বেসরকারি কোনো স্বাস্থ্যকর্মীর দেখা মেলেনি। বাসাত্লাংপাড়ায় একটি কমিউনিটি ক্লিনিক আছে, সেটিও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ । হামের টিকা না পাওয়ায় লোকজন বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

