দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। সর্বশেষ চব্বিশ ঘণ্টায় এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরো পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আটশ ঊনচল্লিশ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
সবশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২, আর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা প্রায় ঊনত্রিশ হাজারের কাছাকাছি। এর মধ্যে বেশিরভাগই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, বর্তমানে দেশজুড়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে প্রায় দুই হাজার রোগী।
দেশের ভেতরে সংক্রমণের চিত্র একরকম নয়। সর্বশেষ চব্বিশ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে খুলনা বিভাগে। এরপর অবস্থান ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও রাজশাহীর। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে। সার্বিকভাবে সিটি করপোরেশন এলাকায় আক্রান্তের হার তুলনামূলক বেশি, যা নগর এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের চ্যালেঞ্জকে সামনে নিয়ে আসছে।
আক্রান্তদের বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যানও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে। সংক্রমণের দিক থেকে পুরুষের সংখ্যা নারীর তুলনায় বেশি হলেও মৃত্যুর হারে এগিয়ে নারীরাই। এছাড়া তরুণ বয়সীদের মধ্যে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা গেছে, বিশেষ করে একুশ থেকে ত্রিশ বছর বয়সীদের মধ্যে।
মাসভিত্তিক হিসাবে চলতি আগস্ট মাসেই সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে, আর মাস শেষ হওয়ার আগেই এই সংখ্যা গত মাসের তুলনায় অনেকটা এগিয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমের শেষ ভাগে সংক্রমণ আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা, কারণ এই সময়ে বৃষ্টির পানি জমে থাকার সুযোগ বেশি থাকে, যা এডিস মশার প্রজননের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির আশপাশে, ছাদে, নির্মাণাধীন স্থাপনায় কিংবা ফুলের টবে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে ঠেকানো সম্ভব। গত বছরের তুলনায় এ বছরের পরিস্থিতি এখনো কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, আগস্টে সংক্রমণের দ্রুত ঊর্ধ্বগতি স্বাস্থ্য বিভাগকে সতর্ক করে তুলেছে। মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

