দিনাজপুরের জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনের চিকিৎসাসেবাকে আরও গতিশীল করতে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামসমৃদ্ধ একটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছে এনসিসি ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির আওতায় দেওয়া এই অ্যাম্বুলেন্সটি বিশেষ করে হৃদ্রোগীদের জরুরি স্থানান্তর ও চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ঢাকার সচিবালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাম্বুলেন্সের চাবি হস্তান্তর করা হয়। মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনের উপস্থিতিতে এনসিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. নূরুন নেওয়াজ সেলিম জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন, দিনাজপুরের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আজাদের হাতে অ্যাম্বুলেন্সটির চাবি তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণসচিব মোহাম্মদ আবু ইউছুফসহ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এনসিসি ব্যাংকের পক্ষ থেকে ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান খায়রুল আলম চাকলাদার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শামসুল আরেফিন এবং অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাকির আনাম উপস্থিত ছিলেন।
জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের জ্যেষ্ঠ সদস্য খালেকুজ্জামান বাবু, কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারুল কবির, উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক শাহ্ আলম আশরাফী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মেজবাহ্ আলম, সহকারী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের হৃদ্রোগীদের জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি নতুন সুবিধা যুক্ত হলো। বিশেষ করে গুরুতর অবস্থায় থাকা রোগীদের দ্রুত এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে নেওয়া, জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানো কিংবা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তার জন্য রোগী স্থানান্তরের ক্ষেত্রে একটি আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশের রাজধানীকেন্দ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রোগীদের অনেক সময় উন্নত চিকিৎসার জন্য বড় শহরে যেতে হয়। হৃদ্রোগের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দ্রুত রোগী স্থানান্তরের সক্ষমতা চিকিৎসার ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে। এ দিক থেকে দিনাজপুরের মতো উত্তরাঞ্চলের একটি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবায় কার্যকর সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এনসিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. নূরুন নেওয়াজ সেলিম বলেন, ব্যাংকটি শিক্ষা ও চিকিৎসার পাশাপাশি কৃষি, পরিবেশ এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনকে দেওয়া এই অ্যাম্বুলেন্স হৃদ্রোগীদের জরুরি চিকিৎসাসেবায় কাজে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সামাজিক দায়বদ্ধতার আওতায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এ ধরনের উদ্যোগ স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামোগত ঘাটতি পূরণে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে প্রত্যন্ত ও বিভাগীয় পর্যায়ের চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি পরিবহন সুবিধা বাড়ানো গেলে রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা সহজ হয়।
জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন, দিনাজপুর দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে জরুরি রোগী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়লে চিকিৎসাসেবার পরিধিও আরও কার্যকরভাবে বাড়ানো সম্ভব হবে। নতুন অ্যাম্বুলেন্সটি সেই সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
বিশেষ করে হৃদ্রোগের জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীর দ্রুত স্থানান্তরের প্রয়োজন হতে পারে। এমন সময়ে সাধারণ যানবাহনের পরিবর্তে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার উপযোগী অ্যাম্বুলেন্স রোগী পরিবহনে বাড়তি নিরাপত্তা তৈরি করে। নতুন অ্যাম্বুলেন্সে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকায় জরুরি অবস্থায় রোগীকে স্থানান্তরের সময় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার সুযোগও বাড়বে।
স্বাস্থ্যসেবায় বেসরকারি খাতের সামাজিক বিনিয়োগের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। শুধু দাতব্য সহায়তা নয়, রোগী পরিবহন, চিকিৎসা সরঞ্জাম, হাসপাতালের অবকাঠামো এবং জনসচেতনতা কার্যক্রমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে পারে।
এনসিসি ব্যাংকের এই উদ্যোগকে সেই ধারার অংশ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। একটি অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহের মাধ্যমে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের পরিবহন সক্ষমতা বাড়ছে না, বরং জরুরি সময়ে রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
দিনাজপুরসহ আশপাশের এলাকার হৃদ্রোগীদের জন্য নতুন এই অ্যাম্বুলেন্স কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে এর যথাযথ ব্যবহার, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং জরুরি সময়ে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার ওপর। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এসব বিষয় নিশ্চিত করতে পারলে এনসিসি ব্যাংকের দেওয়া অ্যাম্বুলেন্সটি উত্তরাঞ্চলের হৃদ্রোগ চিকিৎসায় বাস্তব উপকার বয়ে আনতে পারে।

