দেশে হামের প্রকোপ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে দুজনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। একই সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৮৮৬ জনের শরীরে, আর পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে আরও ৫৭ জনের। আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৬৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আর একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৯ শিশু। উপসর্গজনিত ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে সামগ্রিক মৃত্যুর সংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে ৯৬৩ জনে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া ৫৭ জনসহ গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১৮ হাজার ৮৫৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর বাইরে হামের উপসর্গ নিয়ে এই একই সময়কালে মোট এক লাখ ৫৫ হাজার ৬৭৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে গতকালই নতুন করে যোগ হয়েছে ৮৮৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই দীর্ঘ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট এক লাখ ৩৬ হাজার ২৫৭ জন রোগী। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন এক লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ জন—যা দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার একটি ইতিবাচক দিক হলেও, প্রতিদিনই নতুন করে হাজারো মানুষের আক্রান্ত হওয়ার এই ধারা প্রমাণ করছে সংক্রমণ এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস ধরে চলা এই প্রাদুর্ভাবে শিশুমৃত্যুর এই ধারাবাহিকতা দেশের টিকাদান কর্মসূচি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরছে। বিশেষত প্রতিদিন গড়ে শতাধিক নতুন উপসর্গী রোগী শনাক্ত হওয়ার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আসছে দিনগুলোতেও শিশুমৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

