দেশে হাম ও হামের উপসর্গজনিত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেড়েছে। গত এক দিনে নতুন করে ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, যদিও এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর প্রমাণ মেলেনি।
আজ সোমবার প্রকাশিত এক বার্তায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা—এই ২৪ ঘণ্টার হিসাবেই নতুন এই ছয়জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে এবং একজনের বরিশাল বিভাগে।
সবশেষ এই তথ্য যোগ হওয়ায় চলতি বছরে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭৩ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৯ জন, বাকি ৮৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে, যদিও তাদের ক্ষেত্রে রোগ নিশ্চিতকরণ পরীক্ষা হয়নি বা প্রতিবেদন এখনো মেলেনি।
সংক্রমণের দিক থেকেও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যার ফলে চলতি বছরে মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ১৯ হাজার ৩১২ জনে। এর পাশাপাশি একই সময়ে আরও এক হাজার ১৬২ জনের দেহে হামের উপসর্গ দেখা গেছে, ফলে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা এখন ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৯১ জনে গিয়ে ঠেকেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৪৫ জন রোগী। স্বস্তির খবর হলো, এদের মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪০৪ জনই চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
সংখ্যার এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দেড় লাখের বেশি হওয়ায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন স্বাস্থ্যবিশ্লেষকরা।

