দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়ে গেছে। গত এক দিনে এই রোগে নতুন করে দুজনের মৃত্যু হয়েছে, আর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজারের বেশি রোগী। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছাল ১৪৩ জনে, আর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ৫০ হাজারের ঘর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে শনিবার পাঠানো একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের একটি বড় অংশ রাজধানীকেন্দ্রিক। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০৮ জন, আর দক্ষিণ সিটিতে ভর্তি হয়েছেন ৭৬ জন। রাজধানীর এই দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্যান্য অংশে ভর্তি হয়েছেন আরও ২৫১ জন।
রাজধানীর বাইরের চিত্রও কম উদ্বেগজনক নয়। বরিশাল বিভাগে একদিনেই ভর্তি হয়েছেন ১৪৪ জন, খুলনা বিভাগে সংখ্যাটি ১৯৯—যা তালিকার সর্বোচ্চের কাছাকাছি। চট্টগ্রাম বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ১০৩ জন, রাজশাহীতে ৮৩ জন। এ ছাড়া ময়মনসিংহে ৪৮ জন, রংপুরে ৪৭ জন এবং সিলেট বিভাগে তুলনামূলক কম, মাত্র ৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ডেঙ্গুর প্রকোপ এখন আর শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নেই, বরং দেশের প্রায় প্রতিটি বিভাগেই এর বিস্তার ঘটেছে।
সার্বিক পরিসংখ্যানের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তের তথ্য সংরক্ষণ শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বছর ছিল ২০২৩ সাল, যখন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিন লাখের বেশি মানুষ এবং মৃত্যু হয়েছিল সতেরো শতাধিক রোগীর—যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেকর্ড। এরপর গত বছর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও মৃত্যু চার শতাধিক ছাড়িয়ে যায় এবং হাসপাতালে ভর্তি হন প্রায় এক লাখ দুই হাজার রোগী।
এ বছরের সংখ্যা এখনো আগের দুই বছরের তুলনায় কম হলেও মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বৃষ্টি ও আর্দ্র আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে মশাবাহিত এই রোগের প্রকোপ আরও বাড়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, নিয়মিত মশার প্রজননস্থল পরিষ্কার রাখা এবং জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

