দেশজুড়ে চলমান হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়েও বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রায় দুই কোটি শিশু এই টিকা পেয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় দশ শতাংশ বেশি। তবে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে সরকার আরও একটি ব্যাপক টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করতে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যে জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চের শেষের দিকে দেশে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার পর সরকার তাৎক্ষণিকভাবে এপ্রিলের শুরুতে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় প্রথম দফায় জরুরি টিকাদান শুরু করে। এর কিছুদিন পরই দ্বিতীয় দফায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, বরিশাল এবং ময়মনসিংহ—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মসূচি সম্প্রসারিত হয়। এপ্রিলের শেষভাগে শুরু হওয়া তৃতীয় ও শেষ দফায় সারা দেশে একযোগে এই টিকাদান কার্যক্রম চালু করা হয়, যা এখনো চলমান রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, শুরুতে এই কর্মসূচিতে দেশের প্রায় এক কোটি আশি লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছিল। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে বাস্তবে টিকা গ্রহণকারী শিশুর সংখ্যা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়ে প্রায় একশো দশ শতাংশে পৌঁছেছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগেই সবচেয়ে বেশি শিশু টিকা নিয়েছে—দুই বিভাগেই সংখ্যাটি প্রায় পঞ্চাশ লাখের কাছাকাছি। এরপর যথাক্রমে রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও বরিশাল বিভাগে বিভিন্ন সংখ্যক শিশু টিকার আওতায় এসেছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন এলাকায় আলাদাভাবে টিকাদানের তথ্যও রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিশু টিকা নিয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, শিশুদের টিকাদান একটি চলমান প্রক্রিয়া, এবং আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে যে নতুন করে ব্যাপক টিকা কর্মসূচি শুরু হচ্ছে, তা সরকারের অতিরিক্ত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। তিনি জানান, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো যেন কোনো শিশুই টিকা গ্রহণ থেকে বাদ না পড়ে।

