সারা দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় এই রোগে নতুন করে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, পাশাপাশি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার সাতশ তিপ্পান্ন জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এই সাত মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে ১৭১ জনে। এ ছাড়া বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছাপ্পান্ন হাজার নয়শ ষোলোতে।
বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে, সর্বশেষ চব্বিশ ঘণ্টায় দেশের কোন বিভাগে কত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে সিটি কর্পোরেশনের বাইরের এলাকায়, যেখানে সংখ্যাটি প্রায় চারশ। এর পরই রয়েছে খুলনা বিভাগ, যেখানে ভর্তি হয়েছেন সাড়ে তিনশর কাছাকাছি রোগী।
রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী ভর্তি হয়েছেন—ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে পৌনে দুইশ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে তার কাছাকাছি সংখ্যক রোগী। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে পৌনে দুইশ এবং চট্টগ্রাম বিভাগে তার কিছু কম সংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
তুলনামূলকভাবে কম আক্রান্তের চিত্র দেখা গেছে দেশের অন্য কয়েকটি বিভাগে। ময়মনসিংহ বিভাগে ভর্তি হয়েছেন প্রায় আশি জন, রংপুর বিভাগে পঞ্চাশের কিছু বেশি এবং সবচেয়ে কম রোগী ভর্তি হয়েছেন সিলেট বিভাগে, যেখানে সংখ্যাটি এক অঙ্কের ঘরে।
সামগ্রিকভাবে এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দেয় যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ এখনও ছড়িয়ে রয়েছে এবং বিশেষ করে রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি তুলনামূলক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষা-পরবর্তী এই সময়ে মশাবাহিত এই রোগের বিস্তার রোধে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে এই সাম্প্রতিক তথ্য।

