দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেড়েছে। সর্বশেষ চব্বিশ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে নতুন করে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার ফলে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৪। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত এই সময়সীমার মধ্যেই আটজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট মৃত্যু হয়েছে ৯৪৪ জনের, আর পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০০ জনের। দুটি মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা এখন এক হাজার চুয়াল্লিশ।
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই নিয়মিত পরিসংখ্যানে বয়স অনুযায়ী কোনো বিভাজন দেওয়া থাকে না। রোগতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, হাম নীতিগতভাবে যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারলেও শিশুরাই এতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। এই প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে ঘটা প্রতিটি মৃত্যুকেই হামজনিত মৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন বলছে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে এক হাজার দুইশ ৩৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ১৫ মার্চ থেকে হিসাব করলে এখন পর্যন্ত মোট উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে এক লাখ পঁচাত্তর হাজারের বেশি।
পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। সর্বশেষ চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে ৮১ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে, এবং মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা বিশ হাজারের বেশি। এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ চুয়ান্ন হাজারের বেশি রোগী, যার মধ্যে এক লাখ আটচল্লিশ হাজারের বেশি রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
তবে একটি স্বস্তির খবরও রয়েছে প্রতিবেদনে—সর্বশেষ চব্বিশ ঘণ্টায় পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। যে আটজন মারা গেছেন, তারা সবাই হামের উপসর্গ নিয়েই মৃত্যুবরণ করেছেন। ভৌগোলিক বিভাজনে দেখা যায়, এই আটজনের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগের, তিনজন সিলেট বিভাগের, দুজন বরিশাল বিভাগের এবং একজন খুলনা বিভাগের বাসিন্দা।

