দেশজুড়ে হাম উপসর্গে গত এক দিনে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, আর নতুন করে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা যুক্ত হয়েছে এক হাজার তিনশত ষোলো জন। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গভিত্তিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজার দুইশত ঊনচল্লিশ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি সময় পর্যন্ত ছয় মাসের বেশি সময়ে দেশে মোট হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় এক লাখ চুয়াত্তর হাজারে।
এই একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা বিশ হাজার দুইশত ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে গত এক দিনে নতুন নিশ্চিত রোগী যুক্ত হয়েছেন সাতাত্তর জন।
গত ছয় মাসে হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় এক লাখ তিপ্পান্ন হাজার মানুষ, আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন প্রায় এক লাখ সাতচল্লিশ হাজার জন— অর্থাৎ ভর্তি ও সুস্থ হওয়ার সংখ্যার মধ্যে ব্যবধান তুলনামূলক কম।
মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ছয় মাসে হাম উপসর্গে মোট প্রায় ৯৩৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক কম— একই সময়ে এই সংখ্যা ১০০ দাঁড়িয়েছে, এবং গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসর্গভিত্তিক ও নিশ্চিত রোগীর সংখ্যার মধ্যে এই বড় ব্যবধান থেকে বোঝা যায়, প্রকৃত রোগ নির্ণয় পরীক্ষার আওতায় সীমিত সংখ্যক রোগীই আসছেন, যা রোগ নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হতে পারে। শিশুমৃত্যুর উচ্চ সংখ্যা দেশে টিকাদান কর্মসূচির কার্যকারিতা ও সময়মতো টিকা গ্রহণের হার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা।

