দেশে হাম ও হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এই রোগের উপসর্গ নিয়ে, আর একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে সাড়ে বারোশর বেশি শিশু।
মঙ্গলবার বিকেলে প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবশেষ মৃত্যু হওয়া দুই শিশুর একজন ঢাকা বিভাগের, অন্যজন খুলনা বিভাগের।
দেশের বিভাগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হামরোগী পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে—এই একদিনেই সেখানে সাড়ে চারশর বেশি সন্দেহভাজন এবং পঁচাত্তর জন নিশ্চিত রোগী চিহ্নিত হয়েছে, যাদের বড় একটি অংশকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিপরীতে সবচেয়ে কম আক্রান্তের সংবাদ এসেছে রংপুর বিভাগ থেকে, যেখানে মাত্র কয়েকজন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে, তাদের সবাইকেই হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
চলতি বছরের মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে প্রায় হাজারের কাছাকাছি শিশুর, আর সরাসরি হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও শতাধিক শিশু। দুটি মিলিয়ে এই সময়ের মধ্যে হাম-সংক্রান্ত কারণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজারের ৬৫ বেশি।
সংক্রমণের সামগ্রিক চিত্রেও উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট। এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে বিশ হাজারের বেশি মানুষ, আর সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা প্রায় দুই লাখের কাছাকাছি।
স্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই প্রাদুর্ভাব এবং তাতে শিশুমৃত্যুর ক্রমবর্ধমান সংখ্যা দেশের টিকাদান কর্মসূচির ফাঁকফোকর এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সক্ষমতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসছে। শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসাসেবা নেওয়ার ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তাঁরা।

