দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ এখনও উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় এই মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর এই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার সাতশ বিরাশি জন।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গু বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বুলেটিন অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা এখন ২০৯ পৌঁছেছে। মাস অনুযায়ী মৃত্যুর হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শুধু আগস্ট মাসেই প্রাণ গেছে তেতাল্লিশ জনের, আর চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম তেইশ দিনেই মৃত্যু হয়েছে ১১২ জনের—যা স্পষ্টভাবে বলে দেয়, সেপ্টেম্বরেই এ বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর আগে জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন এবং মে, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে অল্প সংখ্যক মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গিয়েছিল।
বুধবার সকাল আটটা থেকে পরবর্তী চব্বিশ ঘণ্টার হিসাবে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার সাতশ বিরাশি জনে, ফলে চলতি বছরে মোট হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা পৌঁছেছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে। স্বস্তির বিষয় হলো, একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক হাজার সাতশ সাতান্ন জন, এবং চলতি বছরে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা মোট রোগীর সংখ্যা এখন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত চব্বিশ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে—সাতশ ষোলো জন। এরপর চট্টগ্রাম বিভাগে ভর্তি হয়েছেন দুইশ আটাশি জন, খুলনায় দুইশ ছিয়াশি জন, বরিশালে একশ চৌষট্টি জন, রাজশাহীতে একশ ত্রিশ জন, ময়মনসিংহে একশ আট জন, রংপুরে তিয়াত্তর জন এবং সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম সতেরো জন।
সংখ্যাগুলো স্পষ্ট করে দেয়, রাজধানী ও এর আশপাশের অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ এখনও সবচেয়ে বেশি, যা মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে আরও জোরদার মনোযোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।

