দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১৩১ জন। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। আজ শনিবার, ১০ অক্টোবর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত হয়েছেন ৯৫৫ জন। নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩১ জন। দুই সংখ্যা মিলিয়ে নতুন রোগী ১ হাজার ৮৬ জন।
এ বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত হামের মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৮৪৮ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামের রোগী ২২ হাজার ৩২৮ জন। বাকিরা উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত হয়েছেন।
এই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৫ জন। সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪৫৪ জন। অর্থাৎ ভর্তি রোগীদের বড় অংশই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, যা চিকিৎসাব্যবস্থার জন্য কিছুটা আশার দিক।
মৃত্যুর হিসাবে বিজ্ঞপ্তি বলছে, ১৫ মার্চ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৫১ জন। নিশ্চিত হামে মৃত্যু ১০৪ জনের। দুটি সংখ্যা যোগ করলে মোট মৃত্যু দাঁড়ায় ১ হাজার ১৫৫ জন। তবে বিজ্ঞপ্তিতে মোট সংখ্যাটি আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি। এই যোগফল প্রতিবেদনের তথ্য থেকেই হিসাব করা।
এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়। একই দিনে প্রকাশিত আরেকটি হিসাবে মোট আক্রান্ত, নিশ্চিত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা এই বিজ্ঞপ্তির সংখ্যার সঙ্গে মেলে না। যেমন সেখানে বছরের মোট নিশ্চিত রোগী ২১ হাজার ৬৬৬ জন এবং মোট মৃত্যু ১ হাজার ১২২ জন বলা হয়েছিল। এখানে সংখ্যা যথাক্রমে ২২ হাজার ৩২৮ ও ১ হাজার ১৫৫। পার্থক্যের কারণ হতে পারে তথ্য হালনাগাদের সময়ের ভিন্নতা বা গণনার পদ্ধতি। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্পষ্টীকরণ পাওয়া যায়নি। তাই সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে এই বিজ্ঞপ্তির সংখ্যাকে সরকারি কন্ট্রোলরুমের তথ্য হিসেবে উল্লেখ করাই নিরাপদ।
সংখ্যার ধরন বিশ্লেষণ করলে আরও কিছু বিষয় স্পষ্ট হয়। মোট রোগীর অধিকাংশই উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত, নিশ্চিত রোগী প্রায় ১১ শতাংশ। মৃত্যুর ক্ষেত্রেও একই চিত্র। প্রতি দশ মৃত্যুর প্রায় নয়টিই হয়েছে উপসর্গ নিয়ে, পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া ছাড়াই। এতে বোঝা যায়, অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা হচ্ছে না বা মৃত্যুর আগে নমুনা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রোগের প্রকৃত বিস্তার ও মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় কঠিন হয়ে পড়ছে।
প্রায় সাত মাসে দুই লাখেরও বেশি রোগী এবং এগারো শতাধিক মৃত্যু জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর সংকেত। হাম টিকায় প্রতিরোধযোগ্য রোগ। অথচ এত মৃত্যু ঘটছে, যা টিকাদান কর্মসূচির কাভারেজ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকা পৌঁছানোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিশেষ করে মৃতদের বড় অংশ শিশু হওয়ায় অভিভাবকদের সতর্ক থাকা এবং জ্বর, র্যাশ বা কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।
বিজ্ঞপ্তিতে টিকাদান অভিযানের অগ্রগতি, কোন জেলা বা বিভাগে সংক্রমণ বেশি এবং মৃতদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণ নেই। তাই সংক্রমণ কমছে নাকি বাড়ছে, তা এই একদিনের তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে না। আগামী দিনগুলোর দৈনিক হিসাব এবং এলাকাভিত্তিক তথ্য প্রকাশ হলেই পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে।

