দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়েই রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৭৬ জনে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৯৮ জন রোগী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শনিবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এসব মৃত্যু ও ভর্তির তথ্য নথিবদ্ধ হয়েছে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর মোট সংখ্যা এক লাখ ২১ হাজার ৬৯৯। এর মধ্যে এক লাখ ১৫ হাজার ১৩২ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন। অর্থাৎ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি বলে ধারণা করা যায়।
বিভাগওয়ারি হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন খুলনা বিভাগে, ৩৫৯ জন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ভর্তি হয়েছেন ৩৪১ জন। ঢাকা বিভাগে সিটি করপোরেশনের বাইরে ভর্তি ২৮১ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫৯ জন। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ২৫২, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩২, রাজশাহী বিভাগে ১৪১, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭৫, রংপুর বিভাগে ৫১ এবং সিলেট বিভাগে সাতজন ভর্তি হয়েছেন।
এই চিত্রে একটি বিষয় স্পষ্ট। ডেঙ্গু এখন আর শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক সমস্যা নয়। খুলনা ও বরিশালের মতো বিভাগেও রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, যা সংক্রমণ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দেয়।
মৃত্যুর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে দুইজন মারা গেছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে একজন, খুলনা বিভাগে সিটি করপোরেশনের বাইরে একজন এবং রাজশাহী বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অক্টোবরের শেষ দিকেও এমন সংখ্যক রোগী ভর্তি হওয়া বোঝায়, এডিস মশার বংশবিস্তার এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তাঁদের পরামর্শ, বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নিজে নিজে ওষুধ না খাওয়া জরুরি। সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করার দাবিও উঠছে। সব মিলিয়ে চলতি বছরের মৃত্যুসংখ্যা ৩৭৬ ছুঁয়েছে। শীত না আসা পর্যন্ত সতর্কতা ও নিয়মিত তদারকি চালিয়ে যাওয়াই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

