দেশে হামের প্রকোপ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যুর খবর নেই। তবে একই সময়ে নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২২৫ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১ হাজার ১৭৭ শিশু। এ সময়ে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ১০৫ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮২।
গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামের রোগী পাওয়া গেছে ১ হাজার ১৩৮ জন। এ ছাড়া নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮৭ জনের। অর্থাৎ একদিনে মোট ১ হাজার ২২৫ শিশু আক্রান্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৪০ জনের। এর মধ্যে পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছে ২৪ হাজার ৪৪২ জনের। একই সময়ে সন্দেহজনক হামের রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ৯৭৯ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ৪৯ জন।
পরিসংখ্যানে স্বস্তির দিক হলো, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের বড় অংশই সুস্থ হয়ে ফিরেছে। তবে প্রায় আট মাস ধরে চলা এই সংক্রমণে এক হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যু জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর সতর্কসংকেত। প্রতিদিন হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম টিকায় প্রতিরোধযোগ্য রোগ। তাই শিশুদের টিকা নিশ্চিত করা, টিকাদান কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকা শিশুদের খুঁজে বের করা এবং উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এখন সবচেয়ে জরুরি। অভিভাবকদের সচেতনতা ও স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারি জোরদার না হলে শিশুমৃত্যুর এই ধারা থামানো কঠিন হবে।

