মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডকে বেমেয়াদি ফান্ডে রূপান্তর কিংবা অবসায়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের আইনি অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের এক আদেশে এ প্রক্রিয়ার ওপর থাকা স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হয়েছে।
ফলে সংশ্লিষ্ট ফান্ডগুলোর রূপান্তর বা অবসায়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না। আজ বুধবার (১৭ জুন) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এ আদেশ দেন।
এর আগে কয়েকজন ইউনিটহোল্ডারের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট ফান্ডগুলোর রূপান্তর ও অবসায়ন কার্যক্রমের ওপর দুই মাসের জন্য স্থিতাবস্থা জারি করেছিলেন। পরে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) আবেদনের ভিত্তিতে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে চেম্বার আদালত সেই আদেশ স্থগিত করেন।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড রূপান্তর বিষয়ে কমিশন প্রথম নির্দেশনা দেয় ৯ জুন। পরে আদালতে রিট হওয়ার পর ১১ জুন ট্রাস্টিদের জানানো হয়, রিটকারীদের বাইরে অন্য ইউনিটহোল্ডারদের ক্ষেত্রে রূপান্তর কার্যক্রম চালানো যাবে। এখন আদালতের স্থিতাবস্থাও প্রত্যাহার হওয়ায় সব ইউনিটহোল্ডারের জন্য একই নিয়ম কার্যকর হবে।
তিনি বলেন, সব মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টিরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবেন। ক্লোজড-এন্ড ফান্ডকে ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তর অথবা অবসায়নের ক্ষেত্রে এখন আর কোনো আইনি জটিলতা নেই।
২০২৫ সালের নভেম্বরে জারি হওয়া মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী কোনো মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের গড় বাজারদর যদি গেজেট প্রকাশের ছয় মাসের মধ্যে ক্রয়মূল্য বা ঘোষিত নিট সম্পদমূল্যের মধ্যে যেটি বেশি, তার তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি কমে যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টিকে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আয়োজন করতে হবে।
সেই সভায় উপস্থিত ভোটদানকারী ইউনিটহোল্ডারদের অন্তত ৭৫ শতাংশের সমর্থন এবং বিএসইসির অনুমোদন পেলে ফান্ডটিকে বেমেয়াদি ফান্ডে রূপান্তর অথবা অবসায়নের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যাবে।
এ বিধান বাস্তবায়নের জন্য চলতি বছরের ৭ মে বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করে বিএসইসি। তবে ওই নির্দেশনার বিরুদ্ধে কয়েকজন ইউনিটহোল্ডার হাইকোর্টে রিট করেন। তাদের দাবি ছিল, ২০১৮ সালের সরকারি গেজেটের মাধ্যমে যেসব ক্লোজড-এন্ড ফান্ডের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল, সেগুলোর বর্ধিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া ইউনিটহোল্ডারদের অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।
রিটের শুনানি শেষে গত ২১ মে হাইকোর্ট বিএসইসির ৭ মে জারি করা নির্দেশনা এবং মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫-এর ৬২, ৬৩ ও ৬৪ নম্বর বিধির বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেন। একই সঙ্গে দুই মাসের জন্য রূপান্তর ও অবসায়ন কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।
এর পর কয়েকটি ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠান তাদের অধীন থাকা কয়েকটি ফান্ডের বিশেষ সাধারণ সভার প্রস্তুতি স্থগিত করে। বিষয়টি তারা বিএসইসি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) অবহিত করে।
পরে ১১ জুন বিএসইসি ট্রাস্টিদের চিঠি দিয়ে জানায়, হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার সুবিধা শুধু রিটকারী ইউনিটহোল্ডারদের জন্য প্রযোজ্য। অন্যদের ক্ষেত্রে ৭ মে জারি করা নির্দেশনা কার্যকর থাকবে এবং রূপান্তর বা অবসায়ন প্রক্রিয়া চলমান রাখতে হবে।
সর্বশেষ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের আদেশের ফলে সেই সীমাবদ্ধতাও দূর হয়েছে। এখন সব মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে ইউনিটহোল্ডারদের ভোটের মাধ্যমে। উপস্থিত ভোটদাতাদের কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ যে সিদ্ধান্তের পক্ষে মত দেবেন এবং বিএসইসি অনুমোদন দিলে সেই সিদ্ধান্তই বাস্তবায়িত হবে।

