বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক একজন নির্বাহী পরিচালক এবার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন দেশের বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানে। বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন) পদে চুক্তিভিত্তিক ভিত্তিতে সিরাজুল ইসলামকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার, যার মেয়াদ থাকবে তিন বছর।
গতকাল রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের বিমা অধিশাখা থেকে এই নিয়োগসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইনের নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তবে শর্ত হিসেবে তাঁকে অন্য সব প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে বিদ্যমান কর্মসম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে। কার্যভার গ্রহণের দিন থেকেই তাঁর তিন বছরের মেয়াদ গণনা শুরু হবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নিয়োগের পর তাঁর বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হবে সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত পৃথক একটি চুক্তির মাধ্যমে। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন উপসচিব প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেছেন।
নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীর্ঘদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কর্মরত থাকাকালে তিনি ব্যাংকিং খাতের প্রশাসনিক কার্যক্রম, বিভিন্ন নীতি বাস্তবায়ন এবং আর্থিক খাত-সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিনের এই অভিজ্ঞতা এখন কাজে লাগবে বিমা খাতের প্রশাসনিক ও নিয়ন্ত্রক কার্যক্রম পরিচালনায়। নতুন দায়িত্বে তাঁকে সামলাতে হবে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও সমন্বয়ের পাশাপাশি জনবল ব্যবস্থাপনা এবং কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও।
বিশ্লেষকদের মতে, আর্থিক খাতের অভিজ্ঞ একজন কর্মকর্তার এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক পদে যোগদান দেশের বিমা খাতের প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষত বিমা খাতে দীর্ঘদিন ধরে যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও তদারকির ঘাটতির অভিযোগ রয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতের অভিজ্ঞতা কতটা কার্যকর প্রমাণিত হয়, তা এখন দেখার বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

