দেশের জীবন বিমা খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা এবার খতিয়ে দেখছে বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ লক্ষ্যে সব লাইফ বিমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়ে পাঠিয়েছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সিইওদের কাছে হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত, শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সনদ ও নম্বরপত্র, এবং সিইও পদে নিয়োগ অনুমোদনসংক্রান্ত প্রমাণাদি জমা দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার আইডিআরএর পরিচালক (লাইফ) ও উপসচিব দেবপ্রসাদ পালের স্বাক্ষরে জারি হওয়া একটি জরুরি চিঠির মাধ্যমে দেশের সব লাইফ বিমা প্রতিষ্ঠানের মুখ্য নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়। চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে তাদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার সংশ্লিষ্ট সব তথ্য ও প্রমাণক আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে জমা দিতে হবে।
শুধু কাগুজে নথিপত্র জমা দেওয়াই নয়, নির্দিষ্ট একটি অনলাইন ফরমের মাধ্যমে তথ্য হালনাগাদ করারও নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে মূলত সিইওদের সংশ্লিষ্ট তথ্যের একটি সুসংগঠিত ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে আইডিআরএ, যা ভবিষ্যতে যেকোনো তথ্য যাচাইয়ের কাজকে সহজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিমা খাত–সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো সিইওদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা এবং নিয়োগ অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্যের সঠিকতা যাচাই করা। বিশেষভাবে দেখা হবে, সিইও পদে নিয়োগের সময় নির্ধারিত ন্যূনতম যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্তাবলি যথাযথভাবে পূরণ হয়েছিল কি না।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের যাচাই প্রক্রিয়া বিমা খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং শীর্ষ ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে দক্ষতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো প্রতিষ্ঠানে সিইও নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিতও বহন করছে এই পদক্ষেপ।

