আর্থিক প্রতিষ্ঠান উত্তরা ফাইন্যান্সে অবশেষে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে চাপের মুখে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানসহ তিনজন স্বতন্ত্র পরিচালক এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক একযোগে পদত্যাগ করার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন পরিচালককে উত্তরা ফাইন্যান্সের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। মূল উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান উত্তরা গ্রুপের বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পর ২০২২ সাল থেকেই মূলত স্বতন্ত্র পরিচালকদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক পরিদর্শনে উঠে আসে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়মের চিত্র। গ্রাহকের আমানতের অর্থ প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা না করে ভিন্নভাবে ব্যবহার, আন্তঃব্যাংক ধার নিয়ে তা নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, অগ্রিম ও প্রি-পেমেন্টের নামে অর্থ আত্মসাৎ এবং ভুয়া স্থায়ী আমানতের বিপরীতে ঋণ গ্রহণসহ প্রায় তিন হাজার ৪৪০ কোটি টাকার জালিয়াতির প্রমাণ মেলে। এসব অনিয়মে জড়িত থাকার দায়ে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে উত্তরা গ্রুপ সংশ্লিষ্ট পাঁচজন পরিচালককে অপসারণ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। অপসারিতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা একজন, উত্তরা গ্রুপের চেয়ারম্যান তথা প্রতিষ্ঠানের তৎকালীন ভাইস চেয়ারম্যান, তাঁর ভাই ও একজন পরিচালক, এবং উত্তরা পরিবারের আরও দুই সদস্য যাঁরা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সর্বশেষ কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি নতুন পর্ষদ পুনর্গঠন করে দিয়েছিল উত্তরা ফাইন্যান্সে। তবে চাপের মুখে গত রোববার একযোগে পদত্যাগ করেন এনআরবিসি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক পদমর্যাদার একজন স্বতন্ত্র পরিচালক এবং আরেকজন স্বতন্ত্র পরিচালক। একই সঙ্গে পদত্যাগ করেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকও।
তবে পর্ষদের দুইজন পরিচালক এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন—উত্তরা গ্রুপের আইন উপদেষ্টা হিসেবে থাকা একজন স্বতন্ত্র পরিচালক এবং গ্রুপটির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা। যে গ্রুপের জালিয়াতিকে কেন্দ্র করে এত ঘটনার সূত্রপাত, সেই গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কীভাবে পুনর্গঠিত পর্ষদে জায়গা পেলেন, তা নিয়ে খাত-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। এ প্রক্রিয়ায় কোনো অনৈতিক লেনদেন হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার দাবিও তুলেছেন কেউ কেউ।
প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জালিয়াতির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঋণ মওকুফ করা নিয়ে পর্ষদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের জেরেই গত রোববার সংশ্লিষ্টরা একযোগে পদত্যাগে বাধ্য হন। তাঁর ভাষ্যমতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠানের ভেতরের একটি পক্ষ মিলে এই পদত্যাগের জন্য পরিচালকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন।

