দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বৈধ বিমা দাবি নিষ্পত্তিতে আরেক ধাপ এগোল বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সংশ্লিষ্ট জীবন বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ ও সিকিউরিটি বন্ড বিক্রি করে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে দ্বিতীয় দফায় প্রায় ছয় হাজার পলিসিধারীর দাবি পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, আগামী সোমবার পাঁচটি জীবন বিমা কোম্পানির মোট পাঁচ হাজার আটশ আটষট্টি জন পলিসিধারীকে তাঁদের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করা হবে, যার মোট পরিমাণ তেইশ কোটি টাকার বেশি।
দ্বিতীয় দফার এই পরিশোধ প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী একটি ইসলামী জীবন বিমা প্রতিষ্ঠানের প্রায় সাড়ে তিন হাজার পলিসিধারী, যাঁরা মোট বারো কোটি টাকা পাবেন। এছাড়া আরেকটি প্রতিষ্ঠানের এক হাজারের বেশি পলিসিধারী পাবেন প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। বাকি তিনটি প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরাও নির্ধারিত অঙ্কের অর্থ পরিশোধ পাবেন, যার মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের পাঁচশ আশি জন গ্রাহক পাবেন পাঁচ কোটি টাকা, আর বাকি দুটি প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা তুলনামূলক ছোট অঙ্কের দাবি বুঝে পাবেন।
এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রথম দফায় সাতটি জীবন বিমা কোম্পানির আড়াই হাজারের বেশি পলিসিধারীর দাবি পরিশোধ করা হয়েছিল, যার পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে চৌদ্দ কোটি টাকা। দুই দফা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট আট হাজারের বেশি পলিসিধারীর প্রায় সাঁইত্রিশ কোটি টাকার বেশি বৈধ বিমা দাবি পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান নেতৃত্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা মূলত তিনটি লক্ষ্য সামনে রেখে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে—পলিসিধারীদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা, বিমা খাতে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করা এবং গ্রাহকদের হারানো আস্থা পুনর্গঠন করা। এই লক্ষ্যেই সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন সম্পদ ও সিকিউরিটি বন্ড বিক্রি করে অর্থের সংস্থান করা হচ্ছে, যাতে বছরের পর বছর অপরিশোধিত থাকা বৈধ দাবিগুলো ধাপে ধাপে মেটানো যায়।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই প্রক্রিয়া এখানেই থেমে থাকবে না। অবশিষ্ট বৈধ ও অপরিশোধিত দাবিগুলো যথাযথ যাচাই-বাছাই এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্নের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে পরিশোধ করা হবে।
দেশের জীবন বিমা খাত দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের দাবি পরিশোধে ব্যর্থতা ও আস্থাহীনতার সংকটে ভুগছে। এই পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সরাসরি হস্তক্ষেপে সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে ধাপে ধাপে দাবি পরিশোধের এই উদ্যোগ স্বল্পমেয়াদে গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি ফেরাতে সহায়ক হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই খাতে প্রকৃত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে কোম্পানিগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ সম্পদ বিক্রি করে দাবি মেটানো একটি সাময়িক সমাধান হতে পারে, কিন্তু কোম্পানিগুলোর নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনার মান উন্নত না হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের সংকট আবারও দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

