মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা কমার আগেই আবারও নতুন কূটনৈতিক সংকট সামনে এসেছে। ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার ভিত্তি হিসেবে দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবের মধ্যে তিনটি শর্ত ইতিমধ্যেই লঙ্ঘিত হয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতির পর যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হওয়ার কথা ছিল, তা শুরুতেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) রাতে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তেহরান জানায়, যুক্তরাষ্ট্র বারবার প্রতিশ্রুতি ভেঙে তাদের প্রতি ‘ঐতিহাসিক অবিশ্বাস’ আরও গভীর করেছে। ইরানের ভাষায়, আলোচনার যে ভিত্তি তৈরি হওয়ার কথা ছিল, সেটিই এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, প্রথম লঙ্ঘনটি ঘটেছে লেবানন প্রসঙ্গে। তাদের বক্তব্য, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ মধ্যস্থতার সময় স্পষ্ট করে বলেছিলেন—লেবাননসহ সব অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই শর্ত মানা হয়নি। ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ায় এই শর্ত কার্যত ভেঙে গেছে বলে মনে করছে তেহরান।
দ্বিতীয় অভিযোগটি আরও স্পর্শকাতর। ইরানের দাবি, তাদের আকাশসীমায় একটি ড্রোন প্রবেশ করে, যা পরে ফার্স প্রদেশের লার এলাকায় ভূপাতিত করা হয়। এটি সরাসরি সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে ইরান। এমন ঘটনা চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে অবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।
তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগটি ইরানের পারমাণবিক অধিকার ঘিরে। ইরান বলছে, ১০ দফা প্রস্তাবের একটি ধারা অনুযায়ী তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার স্বীকৃত ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই অধিকারকে কার্যত অস্বীকার করছে। এই বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে বড় বিরোধের কারণ, ফলে এটি নতুন করে আলোচনার পথকে জটিল করে তুলছে।
এই তিনটি ঘটনার প্রেক্ষিতে ইরান স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, আলোচনার যে কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে কূটনৈতিক অগ্রগতি হওয়ার কথা ছিল, সেটি এখন খোলাখুলিভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তারা মনে করছে, এই অবস্থায় কোনো দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বা যুদ্ধবিরতি যৌক্তিক নয়।
অন্যদিকে পাকিস্তান এখনো মধ্যস্থতার ভূমিকায় সক্রিয় রয়েছে। শেহবাজ শরিফ বারবার সংযম ও সংলাপের আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছেন। ইসলামাবাদ চাইছে, লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হোক এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বেরিয়ে আসুক।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চয়তার দিকে মোড় নিচ্ছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর যে আশার সঞ্চার হয়েছিল, তা এখন আস্থার সংকটে আটকে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এই ভাঙা আস্থার ভিত্তিতে আদৌ কোনো অর্থবহ আলোচনা সম্ভব হবে কি না।

