পশ্চিম এশিয়াজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিতে বড় ধরনের ধাক্কার ইঙ্গিত মিলেছে। সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান এবং তার মিত্রদের ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ৮টি দেশে অবস্থিত ১৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—যার মধ্যে কয়েকটি ঘাঁটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
এই হামলাগুলো শুধু সংখ্যার দিক থেকে নয়, লক্ষ্যবস্তুর দিক থেকেও ছিল অত্যন্ত কৌশলগত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ—যেমন উন্নত রাডার সিস্টেম, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান—টার্গেট করেছে। ফলে ক্ষতির মাত্রা শুধু দৃশ্যমান অবকাঠামোতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামরিক সক্ষমতার গভীর স্তরেও আঘাত লেগেছে।
একজন মার্কিন কংগ্রেসনাল সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যে কৌশলগত সুবিধা ছিল, তার বড় একটি অংশ এখন কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এমনকি কিছু স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় সেগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে।
স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হামলাগুলো ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং নির্ভুল। বিশেষ করে রাডার ব্যবস্থাগুলোকে লক্ষ্য করে আঘাত করা হয়েছে—যা ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে মূল্যবান ও সীমিত সম্পদের মধ্যে অন্যতম। এই ধরনের সরঞ্জাম পুনর্নির্মাণ বা প্রতিস্থাপন করা যেমন ব্যয়সাপেক্ষ, তেমনি সময়সাপেক্ষও।
এই সংঘাতের আর্থিক দিকটিও উদ্বেগজনক। পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ব্যয় প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার হলেও, কিছু অভ্যন্তরীণ সূত্র দাবি করছে প্রকৃত ব্যয় ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হতে পারে। অর্থাৎ, সামরিক ক্ষতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও ক্রমেই বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এক সৌদি কর্মকর্তার ভাষায়, এই যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোট মানেই নিরাপত্তার পূর্ণ নিশ্চয়তা নয়।
অন্যদিকে, ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের ওপর হামলার জন্য এসব ঘাঁটি ব্যবহার করা হচ্ছিল বলেই তারা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা আঘাত করেছে।
সব মিলিয়ে, এই হামলাগুলো শুধু সামরিক সংঘর্ষ নয়—বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্য বদলে যাওয়ার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সিভি/এইচএম

