মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবার সরাসরি প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে বৈশ্বিক রাজনীতি ও বাণিজ্যে। ইরানকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ তুলে চীনা পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তার জবাব দিতে একটুও দেরি করেনি বেইজিং।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র যদি এই ইস্যুকে অজুহাত বানিয়ে অতিরিক্ত শুল্ক চাপায়, তাহলে চীনও কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইরানকে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন। তার ভাষায়, “এ ধরনের অভিযোগ ব্যবহার করে যদি যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে চায়, তবে চীন তার যথাযথ জবাব দেবে।”
এই বক্তব্য শুধু কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়—বরং সম্ভাব্য এক নতুন বাণিজ্য সংঘাতের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। কারণ, এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে শুল্ক যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছিল।
এদিকে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে রাশিয়ার সক্রিয়তা। মধ্যপ্রাচ্যের টানাপোড়েনের মাঝেই রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বেইজিং সফর করেছেন। ইরানের বন্দরে মার্কিন অবরোধ চলার মধ্যেই এই সফর হওয়ায় তা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বেইজিংয়ে ল্যাভরভকে আনুষ্ঠানিক লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। এটি শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়—বরং ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরান ইস্যুতে চীন ও রাশিয়া একধরনের অভিন্ন অবস্থান নিচ্ছে।
চীন ও রাশিয়া উভয়ই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতির সমালোচনা করেছে। বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে চীন নিজেও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। কারণ, ইরানি তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হিসেবে এই সংঘাত সরাসরি তাদের জ্বালানি নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে একটি আঞ্চলিক সংঘাত ধীরে ধীরে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি এবং চীনের পাল্টা প্রতিক্রিয়া সেই বৃহত্তর সংঘাতেরই নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

