ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবারও উত্তাপ ছড়িয়েছে বাবরি মসজিদ ইস্যুকে কেন্দ্র করে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে এমন কোনো কাঠামো গড়ে তুলতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জলপাইগুড়িতে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় ইস্যুকে ব্যবহার করছে। তাঁর ভাষায়, “বাংলায় কাউকে বাবরি মসজিদ বানাতে দেওয়া হবে না।” এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
অমিত শাহ আরও দাবি করেন, সদ্য গঠিত একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান হুমায়ুন কবীর একটি বিতর্কিত মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত এবং তিনি শাসক দলের ইঙ্গিতেই কাজ করছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি মালদহ জেলার গাজোল ও মানিকচকের পৃথক জনসভায় আরও কড়া ভাষায় বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ কোনোভাবেই বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না এবং রাজনৈতিকভাবে এর বিরোধিতা করবে বিজেপি। তাঁর মন্তব্য অনুযায়ী, “এই ধরনের পরিকল্পনা সফল হবে না।”
এই বিতর্কের সূত্রপাত মূলত গত বছরের ডিসেম্বর থেকে, যখন হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গা এলাকায় একটি মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাব দেন। সেই সময় থেকেই বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নেয়। প্রায় আট একর জমিতে ৮৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনীতি আরও বিভক্ত হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, এই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিজেপির এ ধরনের বক্তব্য উস্কানিমূলক এবং রাজনৈতিক পরিবেশকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব কর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন গণতান্ত্রিক উপায়ে এই ধরনের বক্তব্যের জবাব দিতে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় সংবেদনশীল ইস্যুগুলো আবারও ভোটের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠছে। বাবরি মসজিদ ইস্যু ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা কেবল একটি নির্মাণ প্রকল্প নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক মেরুকরণের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে। এই প্রেক্ষাপটে অমিত শাহের মন্তব্য নির্বাচনী প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

