শুক্রবার সন্ধ্যায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ বন্দরের কাছ থেকে নোঙর তুলে ফুজাইরা বন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। রাত ৯টার দিকে যাত্রা শুরু করে এটি অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজের মতোই হরমুজের দিকে এগোতে থাকে।
জাহাজটি রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ভোরের আগেই প্রণালি অতিক্রম করার কথা ছিল। তবে রাত সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ ইরানি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে রেডিও বার্তা পাঠিয়ে সব জাহাজকে থামার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জানানো হয়, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রণালি পার হতে পারবে না।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রণালি খোলার ঘোষণার পর অনুমতির জন্য যোগাযোগ করা হলেও কোনো স্পষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি। এ কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে ধরে নিয়েই জাহাজটি যাত্রা শুরু করে। একই সময় প্রায় ৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজও একই পথে অগ্রসর হচ্ছিল।
উল্লেখ্য, এর আগে ইরান-সংঘাতের কারণে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ প্রায় ৪০ দিন ধরে ৩১ জন নাবিকসহ আটকে ছিল। যুদ্ধবিরতির ঘোষণা পাওয়ার পর গত ৮ এপ্রিল সৌদি আরবের একটি বন্দর থেকে এটি পুনরায় যাত্রা শুরু করে। ১০ এপ্রিল হরমুজের কাছাকাছি পৌঁছালেও তখনও প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি। ফলে জাহাজটি ফিরে গিয়ে শারজাহ বন্দরের কাছে অপেক্ষা করছিল।
সাম্প্রতিক এই ঘটনা প্রমাণ করছে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও বাস্তবে সামুদ্রিক চলাচলে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটে সামান্য উত্তেজনাও বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু জাহাজ চলাচল নয়, জ্বালানি আমদানি, পরিবহন ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও চাপ বাড়তে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এখন কেবল আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।