যুদ্ধ শুধু জীবনই কেড়ে নেয় না, থামিয়ে দেয় একটি জাতির ভবিষ্যতের পথচলাও। কিন্তু সেই বাস্তবতার মাঝেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে সচল রাখার এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ তুলে ধরেছে ইরান। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ১,৩০০টি স্কুলের মধ্যে ইতোমধ্যেই ৭৭৫টি মেরামত করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-এর বরাতে জানা যায়, এই ক্ষয়ক্ষতির পেছনে ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তেহরান, কেরমানশাহ, ইসফাহান এবং হরমোজগান প্রদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।
শিক্ষামন্ত্রী আলিরেজা কাজেমি জানান, প্রায় ২০টি স্কুল পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে যেসব স্কুলে আংশিক ক্ষতি হয়েছে, সেগুলো দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর পুনর্গঠন আগামী অক্টোবরের মধ্যেই সম্পন্ন করা যাবে।
তবে এই পুরো পরিস্থিতির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো—শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়নি। যুদ্ধের মধ্যেও ক্লাস চালু রাখা হয়েছে, কখনো সরাসরি, কখনো অনলাইনে। এমনকি টেলিভিশনের মাধ্যমেও পাঠদান চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে না পড়ে।
এই সংকটের আরেকটি মানবিক দিকও সামনে এসেছে। হামলায় নিহত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের স্মরণে বিভিন্ন স্কুলে শোকসভা আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে মিনাব অঞ্চলের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১৭০ জনের স্মৃতি এখনো গভীরভাবে নাড়া দিচ্ছে দেশটির শিক্ষা অঙ্গনকে।
শুধু অবকাঠামো নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক পুনর্বাসনেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তাদের মানসিক আঘাত কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে, যা যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই পুরো উদ্যোগকে শুধু পুনর্গঠন হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি এক ধরনের কৌশলগত বার্তাও বহন করে—যুদ্ধের মধ্যেও রাষ্ট্র তার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখা মানে দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হোক, শিক্ষার ধারা অব্যাহত থাকলে একটি দেশ দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এটি একটি বার্তা—ইরান শুধু সামরিক প্রতিক্রিয়াতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকেও শিক্ষা ব্যবস্থাকে দাঁড় করানোর এই চেষ্টা একটি দেশের দৃঢ়তার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

