দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এবং প্রায় দুই মাস ধরে চলা সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও এখনো বড় কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য থাকায় একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো কার্যত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূলত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এখনো সমাধানহীন, যা পুরো প্রক্রিয়াকে আটকে রেখেছে।
প্রথম বড় বিরোধ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করুক। তবে তেহরান এই দাবি মানতে নারাজ। ইরানের অবস্থান হলো, এ ধরনের সীমাবদ্ধতা স্থায়ী নয়, বরং সর্বোচ্চ কয়েক বছরের জন্য সীমিত আকারে হতে পারে।
দ্বিতীয় ইস্যু ইউরেনিয়াম মজুত। বর্তমানে ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় এই পুরো মজুত তাদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হোক। কিন্তু ইরান স্পষ্টভাবে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে, যা আলোচনায় নতুন জটিলতা তৈরি করেছে।
তৃতীয় বড় বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি ও বন্দরসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, চূড়ান্ত চুক্তি ছাড়া কোনো অবরোধ তোলা হবে না।
চতুর্থ ইস্যু হলো বিদেশে আটকে থাকা অর্থ। ইরান দাবি করছে, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার বিদেশে আটকে আছে, যা ফেরত দিতে হবে। এটি একটি সম্ভাব্য চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তারা দেখতে চায়।
সবশেষে রয়েছে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ। ইরানের দাবি, সাম্প্রতিক হামলায় দেশটির যে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে প্রায় ২৭ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই দাবি আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পাঁচটি ইস্যু শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই আপাতত সমঝোতার পথ থাকলেও বাস্তবে অচলাবস্থা কাটানো সহজ হবে না।
সিভি ডেস্ক/এইচএম

