ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতে ইরাকের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এমনটাই তুলে ধরা হয়েছে, ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক প্রভাবের প্রশ্নে ওয়াশিংটন-বাগদাদ সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনার মুখে পড়েছে। সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী ও বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়ারা। এসব হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র বাগদাদ সরকারের কাছে জোরালোভাবে দাবি জানিয়েছে, যেন তারা সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয় এবং তাদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনে।
ওয়াশিংটনের দাবি, এসব গোষ্ঠী শুধু ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য নয়, দেশটিতে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক বাহিনীর জন্যও বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরাক সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এই নেটওয়ার্ক ভেঙে দিক এবং তাদের কার্যক্রম নিষ্ক্রিয় করুক।
প্রতিবেদনে ‘কাতায়িব হিজবুল্লাহ’সহ কয়েকটি প্রভাবশালী ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি এই গোষ্ঠীর একজন সদস্য নিহত হওয়ার পর বাগদাদে আয়োজিত শোক মিছিলে তাদের দৃশ্যমান উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা দেশটির রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাদের প্রভাবের ইঙ্গিত বহন করে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত থাকলেও, ইরান-ঘনিষ্ঠ এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম দুই দেশের সম্পর্ককে জটিল করে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হচ্ছে, ইরাক যেন ইরানের প্রভাব বলয় থেকে বেরিয়ে এসে একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন নিরাপত্তা নীতি অনুসরণ করে।
প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছেন রাজা আব্দুলরাহিম, ফালিহ হাসান, এডওয়ার্ড ওয়ং এবং এরিকা সোলোমন। এতে ইরাকের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইরানের ভূমিকা এবং সেই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক সম্পর্কের টানাপোড়েনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

