ইরান বরাবরই সংলাপ ও সমঝোতার পক্ষে—এমন অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে তিনি মনে করেন, বাস্তবে আলোচনার পথ এতটা সহজ নয়। তিনটি বড় কারণে সংলাপ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় পেজেশকিয়ান বলেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, অর্থনৈতিক অবরোধ এবং ক্রমাগত হুমকি—এই তিনটি বিষয়ই প্রকৃত আলোচনার প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে।
তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল এখন এমন আচরণ লক্ষ্য করছে যেখানে কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই। এই দ্বৈত অবস্থান কূটনৈতিক আস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং কার্যকর সংলাপের পরিবেশ নষ্ট করছে।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, নৌ-অবরোধের মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে চাপের মুখে ফেলে যদি যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করা হয়, তাহলে সেটিকে প্রকৃত অর্থে যুদ্ধবিরতি বলা যায় না।
গালিবাফ আরও উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থান বন্ধ না হলে একটি পূর্ণাঙ্গ ও অর্থবহ যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু করাও কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।
বর্তমান উত্তেজনার পেছনে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো হয়, যার ফলে ব্যাপক প্রাণহানি এবং অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও রাডার স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে করে পুরো অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যেখানে একদিকে সংলাপের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে বাস্তবে অবিশ্বাস ও চাপের রাজনীতি অব্যাহত রয়েছে। ফলে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য শুধু আলোচনার ইচ্ছাই যথেষ্ট নয়—বরং পারস্পরিক আস্থা, প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এবং উত্তেজনা কমানোর বাস্তব পদক্ষেপও জরুরি হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, ইরানের প্রেসিডেন্ট যে তিনটি বাধার কথা তুলে ধরেছেন, তা শুধু একটি দেশের অভিযোগ নয়; বরং বর্তমান আন্তর্জাতিক কূটনীতির জটিল বাস্তবতারই প্রতিফলন। এখন দেখার বিষয়, এই বাধাগুলো কাটিয়ে সত্যিকারের সংলাপ কতটা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

