শ্রীলঙ্কার অর্থ মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটার ব্যবস্থায় বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে হ্যাকাররা প্রায় ২৫ লাখ মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩০ কোটি ৬৭ লাখ ৭৬ হাজার ২৫০ টাকা। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি দেশটির কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত সবচেয়ে বড় আর্থিক জালিয়াতির ঘটনা।
রাজধানী কলম্বোতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব হর্ষনা সুরিয়াপ্পেরুমা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চুরি হওয়া অর্থ অস্ট্রেলিয়ার কাছে ঋণ পরিশোধের জন্য পাঠানোর কথা ছিল।
তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের ই-মেইল সার্ভারে অনুপ্রবেশের চেষ্টা ধরা পড়ার পরই বিষয়টি সামনে আসে। এরপর খতিয়ে দেখে দেখা যায়, নির্ধারিত অর্থটি আর সিস্টেমে নেই। ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে এই সাইবার আক্রমণ চালিয়ে অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট পাবলিক ঋণ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের চারজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করা যায়।
এই ঘটনার সময়টি শ্রীলঙ্কার জন্য বিশেষভাবে সংবেদনশীল। দেশটি এখনও সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ২০২২ সালে প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ খেলাপি হওয়ার পর দেশটির অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খায়। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সহায়তার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের পথে হাঁটছে দেশটি।
এমন পরিস্থিতিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং প্রশাসনিক সক্ষমতা ও তথ্য নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, তারা এ ঘটনার বিষয়ে অবগত রয়েছে এবং তদন্তে শ্রীলঙ্কাকে সহায়তা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতা যত বাড়ছে, ততই সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি হয়ে উঠছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় আর্থিক লেনদেনে কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের ঝুঁকি ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।

