ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপে ভোটগ্রহণে রেকর্ড গড়ার মতো অংশগ্রহণ দেখা গেছে। প্রায় ৯২ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা দেশটির নির্বাচনী ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, শেষ পর্যন্ত ভোটের হার দাঁড়ায় ৯১ দশমিক ৫২ শতাংশ।
এই দফায় রাজ্যের ১৬টি জেলায় মোট ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি ৯৩ দশমিক ১২ শতাংশ ভোট পড়েছে। কুচবিহার জেলাতেও ৯২ শতাংশের বেশি ভোটার অংশ নেন। তুলনামূলকভাবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই আসনগুলোতে ভোট পড়েছিল প্রায় ৮০ শতাংশ, যা থেকে বোঝা যায় এবারের অংশগ্রহণ অনেক বেশি।
প্রথম দফার ভোট শেষে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই বিপুল ভোটকে ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছেন। তার মতে, ভোটারদের এই উপস্থিতি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা প্রকাশ করে।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ভিন্ন সুরে মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেন, রাজ্যের রাজনীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট এবং শাসক দলের প্রভাব কমে আসছে।
এই দফায় মোট ১ হাজার ৪৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যাদের ফলাফল ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ভোটে উচ্চ উপস্থিতির পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করেছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে যে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা অনেক ভোটারকে ভোট দিতে উৎসাহিত করেছে। অনেক প্রবাসী শ্রমিকও ভোট দেওয়ার জন্য নিজ এলাকায় ফিরে এসেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে রেকর্ড ভোটের এই চিত্রের পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত সহিংসতার ঘটনাও সামনে এসেছে। কোথাও গাড়ি ভাঙচুর, কোথাও প্রার্থীকে মারধর, আবার কোথাও ভোটকেন্দ্র দখলের অভিযোগ উঠেছে। কিছু স্থানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর হামলার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একে অপরের বিরুদ্ধে এসব ঘটনার দায় চাপিয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় সংঘর্ষে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তবে সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে পর্যবেক্ষকদের মত।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৯ এপ্রিল এবং সব দফার ভোট গণনা হবে ৪ মে।
সব মিলিয়ে, প্রথম দফার নির্বাচন একদিকে যেমন ব্যাপক ভোটার উপস্থিতির জন্য আলোচিত হয়েছে, অন্যদিকে বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনাও নির্বাচনের পরিবেশকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এখন পরবর্তী ধাপগুলো কতটা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

